বৃদ্ধি পেয়েছে ইঁদুরের উৎপাত

দাকোপে পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১৭

চলতি মৌসুমে খুলনার দাকোপে আমন ধান ক্ষেতে মাজরা ও লেদা পোকার আক্রমণ ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে প্রতি রাতে ইঁদুরও ধান গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। পোকা দমনে কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের কিটনাশক স্প্রে এবং ইঁদুর দমনে বিষসহ নানা পদ্ধতি ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে আমন চাষে লোকসানের আশঙ্কায় এলাকার হাজারো কৃষক দিশেহারা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় গত বছরের মত এবারও মোট ১৯ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপসি ১৭ হাজার ১৮৫ হেক্টর, স্থানীয় জাত ১ হাজার ৯৮০ হেক্টর ও হাইব্রিড ২০০ হেক্টর। বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সব এলাকায় ব্যাপক ভাবে মাজরা ও লেদা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ইঁদুরের উৎপাতও ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের বেলায় ইঁদুরগুলো গাছে বা মাটির গর্তে লুকিয়ে থাকে। আর রাতে ইঁদুরে ধান গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। ফলে ধান গাছ শুকিয়ে লাল হয়ে মারা যাচ্ছে। 

উপজেলার আনন্দনগর এলাকার কৃষক গোপাল গোলদার জানান, এবছর তিনি ৪৫ বিঘা জমিতে আমনের চাষ করেছেন। কিন্তু প্রায় ৩ বিঘার মত জমির ধান গাছ ইঁদুরে কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। ধান গাছে ফলন আসার মুহূর্তে মজরা ও লেদা পোকার আক্রমণ ও ইঁদুরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করে পোকা থেকে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। 

তিনি আরও জানান, মাজরা পোকার থেকেও বেশি ক্ষতি করছে ইঁদুরে। ইঁদুর দমনে বিভিন্ন ধরনের বিষ ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে লোকসানের আশংকায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।

চুনকুড়ি এলাকার কৃষক জীবননান্দ মণ্ডল জানান, অতিবৃষ্টির কারণে আমন ফসলে মাজরা, লেদা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ বেড়েছে। বিগত বছর গুলোতে এক বার কীটনাশক স্প্রে করলেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হতো। আর এবছর তিন থেকে চারবার কীটনাশক স্প্রে করেও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে ফসল ঘরে উঠবে। এবছর এমনিতেই দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ব্যাপক খরচ হয়েছে তারপর আবার পোকার আক্রমণ ও ইঁদুরের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। এতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

এছাড়া বানিশান্তা, কামারখোলা, গুনারী, কামনিবাসিয়া ও বটবুনিয়া এলাকার আরও একাধিক কৃষক একই অভিমত ব্যক্ত করেন। 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, এবছর ইঁদুরে ১৯৩ হেক্টর জমির ধান গাছ কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। আর মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণও বেড়েছে। তবে এসব পোকা ধানের তেমন একটা ক্ষতি করে না। এসব পোকা ও ইঁদুর দমনে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ কৃষি পরামর্শ কেন্দ্র চালু করেছি। তা ছাড়া প্রত্যেক দোকানে পর্যাপ্ত কীটনাশক রাখার পরামর্শ ও কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি