পাঁচবিবিতে শিয়ালের কামড়ে আহত ২০

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ১৮:৩২

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে দু’দিনের ব্যবধানে শিয়ালের কামড়ে ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার ৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মাঝে শিয়াল আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীদের মাঝেও। 

সম্প্রতি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের রতনপুর, রায়পুর, চকশিমুলিয়া, দোঘড়া ও পলাশগড় গ্রামে শিয়াল আক্রমণের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় শিশু-কিশোরসহ সাধারণ মানুষ শিয়াল ভীতিতে দিন কাটাচ্ছে। দিনের বেলায় মাঠে কাজ করতে বের হলেও বাঁশের লাঠি হাতে বের হচ্ছেন। আবার সন্ধ্যার পর ভয়ে একা কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শুধু তাই নয় এলাকায় শিয়ালের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে শিশু ও গবাদিপশু নিয়েও শঙ্কিত রয়েছেন এলাকাবাসী।

রতনপুর হিন্দুপাড়ার প্রভাতী রাণী বলেন, সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বাড়ির পাশে গরু ছাগলের খাবার যোগাড় করার পাশাপাশি গৃহস্থালির কাজ করছিলাম। হঠাৎ এ সময় একটা শিয়াল আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভয়ে চিৎকার দেওয়ায় লোকজন এগিয়ে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায় ।

চকশিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোক্তাদির বলেন, মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) কয়েকজন মিলে জমিতে কাজ করার সময় একটি শিয়াল আমার দিকে তেড়ে আসে। সবাই মিলে তাড়া করলে সে চলে যায়। তবে ঐদিনই চকশিমুলিয়া গ্রামের (নদীরধার) মহসিনের ছেলে রতন, রতনপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের অধির চন্দ্র (৬০), আকবর হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া (৫০), জগাইয়ের পুত্র নেপাল (১৮) সহ ১০/১৫ জনকে শিয়াল কামড় দিয়ে আহত করেন।

রতনপুর গ্রামের শ্রী প্রসাদ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, শিয়ালের আক্রমণের ঘটনায় মানুষের মনে ভয় বিরাজ করছে। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। হঠাৎ এমন ঘটনায় দিনে-দুপুরে মাঠে কাজকর্ম ও সন্ধ্যার পর রাস্তায় লোকজন চলাচল করতে আতঙ্ক বোধ করছে। 

জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকেই জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ফয়সাল রাব্বী বলেন, শিয়াল র‍্যাবিশ আক্রান্ত হলে বা তাকে কেউ উত্যক্ত করলে তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করে। এ সময় তারা মানুষ, গরু, ছাগল ও কুকুর যাকেই সামনে পায় তাকেই আক্রমণ করে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সামছুজ্জোহা বলেন, শিয়ালের কামড়ে মানুষ ও পশু প্রাণীর জলাতঙ্ক রোগ হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে। তবে যদি কাউকে শিয়াল আক্রমণ করে তাহলে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করাসহ দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

জেলা সিভিল সার্জন ড. মুহা. রুহুল আমিন বলেন, এ ধরনের রুগীকে চিকিৎসা  দেবার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত  ভ্যাকসিন মজুদ আছে। এমন কেউ আসলে আমরা তাদের চিকিৎসা সেবা দিব। আর এসব শিয়ালের উপদ্রব থেকে বাঁচতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

স্থানীয় ধরঞ্জী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, কয়েক দিন আগে এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি জনসাধারণকে সাবধানে চলাচল করতে বলেন এবং এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে । 

ইত্তেফাক/এমএএস