ইত্তেফাক রিপোর্ট
আদাবরে হত্যা চেষ্টা মামলার এক বাদীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ জুয়েল। বৃহস্পতিবার রাতে আদাবরের ১০ নম্বর সড়কের বালুর মাঠে এ ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের ছোটো ভাই শাহীন জানান, তার ভাই জুয়েল রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালাতেন। মাস তিনেক পূর্বে স্থানীয় কয়েকজন যুবলীগ কর্মী জুয়েলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে জখম করেছিল। ঐ ঘটনায় থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাকে মামলা তুলে নিতে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। পরে থানা পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে তারা ঘটনার রাতে বাসায় ফেরার পথে জুয়েলকে ধরে আদাবর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার চিত্কারে লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিত্সকের পরামর্শে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে জুয়েল তার কাছে ঘাতকদের নাম জানিয়ে দিয়েছেন। জড়িতদের পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, নিহত জুয়েলও যুবলীগের কর্মী ছিলেন। তবে তিনি প্রতিপক্ষের সমর্থক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এ বিরোধের জেরে পূর্বে তার ওপর হামলা হয়েছে এবং মামলা করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মামলার আসামিরা। আদাবর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিন মাস পূর্বে তার ওপর কয়েকজন হামলা চালিয়েছিল। ঐ সময় হামলার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন তারাই তাকে হত্যা করেছে।
