কক্সবাজার সাগরতীরে মিলল ভোলার আরো ৫ জেলের লাশ

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২২:০৫

পরিচয় শনাক্তের পর ৭ জনের লাশ হস্তান্তর 

কক্সবাজার ও ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

ফিশিং ট্রলারডুবির ঘটনায় কক্সবাজার সাগর তীরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ভোলার আরো ৫ জেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি, বেলী হ্যাচারি ও সমিতিপাড়া পয়েন্ট এবং মহেশখালীর ধলঘাটা সাগরতীর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর হতে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক সময়ে অর্ধগলিত এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় গত দুদিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ জনে। এর আগে বুধবার ভোর ও সকালে সৈকতের সী-গাল পয়েন্ট থেকে ৬ জনের মরদেহসহ একটি ফিশিং ট্রলার উদ্ধার হয়। এসময় দুজনকে জীবিতও উদ্ধার করা হয়। তারা এখনো কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া ১১ মরদেহের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা হলেন, ভোলার চরফ্যাশন রসুলপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের শামছুদ্দিন পাটোয়ারী, চরফ্যাশন পূর্ব মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন, উত্তর মাদ্রাসা এলাকার অলিউল্লাহ, একই এলাকার অজিউল্লাহ, মো. মাসুদ, বাবুল মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম। শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ট্রলার মালিক ওয়াজ উদ্দিন মাঝিকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় মরদেহগুলো নিয়ে ভোলার উদ্দেশে রওয়ানা দেন বলে জানিয়েছেন ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো আপাতত কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর ডিএনএ টেস্ট করিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে ওসি তদন্ত জানান।

এদিকে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মনির মাঝি জানান, ৪ জুলাই চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাট থেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে তারা ১৪ মাঝিমাল্লা সাগরে নামেন। ৬ জুলাই ভোরে হঠাত্ ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি উল্টে যায়। ট্রলার থেকে ছিটকে পড়ে জেলেরা। এরপর কে কোথায় যায় খেয়াল নেই। কক্সবাজার সৈকতে কীভাবে এলাম জানি না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ট্রলার মালিক ওয়াজ উদ্দিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১১ মরদেহের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।