ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন মাদারীপুরের কালকিনির গোপালপুর গ্রামের কুন্ডুবাড়িতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব শ্রী শ্রী কালীপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ২৫০ বছর ধরে দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি ‘কুন্ডুবাড়ির মেলা’ নামে পরিচিত। প্রতি বছরের মতো এ বছরও গত ৩০ অক্টোবর থেকে তিন-দিনব্যাপী মেলা শুরু হয়েছে।
এলাকাবাসী ও মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, জেলার কালকিনি উপজেলার গোপালপুরের কুন্ডুবাড়িতে ১৭৮৩ সালে দীপাবলি ও শ্রী শ্রী কালীপূজা উপলক্ষে দীননাথ কুন্ডুও মহেশ কুন্ডু এ মেলার প্রবর্তন করেন। তাই কুন্ডুদের বংশের নামানুসারে মেলা নাম হয় কুন্ডবাড়ির মেলা।
বুধবার থেকে এই মেলা শুরু হলেও মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বৃহস্পতিবার থেকেই। মারামারি, দাঙ্গা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ বেশ কিছু অভিযোগ তুলে কয়েকদিন আগে ঐতিহ্যবাহী মেলাটি বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলো স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে সকলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ বছরও তিনদিনের জন্য এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে শুরু করেছে। দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন মেলা প্রাঙ্গণে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঠের আসবাবপত্রের সমারোহ ঘটেছে এই মেলায়।
মেলায় ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন। মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, সাতক্ষিরা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীরা মেলায় বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। আগের ইজারাদারের ইজারা বাতিল করে এ বছর কালকিনি পৌরসভার তত্ত্বাবধানে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দর্শনার্থী, ত্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, এ বছর মেলায় আড়াই শতাধিক বিভিন্ন স্টল করা হয়েছে। মেলায় কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, বেতের তৈরি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, শিশুদের খেলনা, মাটির পণ্য, বিভিন্ন প্রকার খাবারের দোকানে শিশু, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় পড়েছে।
কুন্ডুবাড়ির মেলা কমিটির সদস্য সচিব কালকিনি পৌরসভা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. লিটন হোসেন জানান, পুরো মেলা জুড়েই এক উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীপাবলি উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী কুণ্ডুবাড়ির মেলাটি আগামীতে আরও বৃহৎ আকারে আয়োজনের দাবি দর্শনার্থীদের।
মাদারীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মোছা. ইয়াসমিন আক্তার জানান, মেলায় আগত দর্শনার্থী, ক্রেতা, বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তায় দিন রাত সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আশাকরি শান্তিপূর্ণভাবে মেলাটি সম্পন্ন হবে।
