আলোকপাত

নিয়ম মেনে বৃক্ষরোপণ করতে হবে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ২২:০৯

আলম শাইন

গ্রামাঞ্চল ব্যতীত আমাদের দেশের মফস্বল শহরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদেরকে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়। এছাড়াও যিনি মফস্বলের স্থায়ী বাসিন্দা তার জমি-জমাও সীমিত। কারণ গ্রামের তুলনায় মফস্বলের জমির দাম অনেকটাই বেশি বিধায় এখানকার অধিবাসীদের জমির পরিমাণও কম। ফলে অনেক স্থানীয়দেরকেও ভাড়া বাড়িতে কাটাতে হয়।

এখন কথা হচ্ছে, যে শিক্ষার্থীর বাবা ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তাকে যদি স্কুল-কলেজ থেকে একটি গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়, সে শিক্ষার্থী কি চারাটিকে সঠিকভাবে সত্কার করতে পারবেন! নিশ্চয়ই না। তাহলে উপহার পাওয়া ঐ গাছের চারাটির স্থান কোথায় হবে? বারান্দা অথবা চিলেকোঠার ঘুপচিতে নিশ্চয়ই। অথবা অতি উত্সাহী শিক্ষার্থীরা টবে লাগিয়ে দুই-চারদিন পানি ঢেলে পরিশেষে বারান্দায় ফেলে রাখবে। তারপর একদিন শিক্ষার্থীর মায়েরা মরা গাছের চারাটি বাড়ির ঝিকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিবেন।

তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়িয়েছে? গাছের চারা বিতরণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বনায়ন সৃষ্টি হয়নি। যদি চারার সঠিক সংস্থান হতো, তাহলে অবশ্যই এত বছরে সমস্ত দেশ সবুজ সমারোহে পরিণত হতো। কিন্তু সে পরিমাণে বনায়ন সৃষ্টি হচ্ছে না, যে হারে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ, হাজার কিংবা লাখ চারা বিতরণের প্রয়োজন নেই, বরং স্বল্পসংখ্যক চারা বিতরণ করে তা রোপণ নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা নির্ধারিত কিছু জায়গা বেছে নিতে পারি। তাতে করে বৃক্ষরোপণ অভিযান সফল হবে। যেমন সরকারের প্রচুর খাসজমি রয়েছে। খালপাড়, নদীরপাড়, রাস্তার দুই পাশ, রেললাইনের দুই পাশ এসব জায়গা পড়ে আছে। পতিত এ স্থানগুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিতে পারি। শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করলে চিহ্নিত স্থানে রোপণের পরামর্শ দিতে পারি। প্রয়োজনে বনায়ন সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা বাধ্যতামূলক করতে পারি। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাদেরকে ভূমির ব্যবস্থা করে দিতে হবে আগে।

আমরা জেনেছি, ফিলিপাইনে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কাজের অংশ হিসেবে বনায়ন সৃষ্টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারা শুধু গাছ লাগিয়ে নাম্বার পেয়ে যাবে তা নয়, গাছের পরিচর্যা করে দেখাতে হবে শিক্ষককে, তবে নাম্বার মিলবে। ইচ্ছে করলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এ ধরনের বিষয় জুড়ে দেওয়া যেতে পারে। যেমন জুড়ে দেওয়া আছে গার্হস্থ্যবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে চারা রোপণ করে রক্ষণাবেক্ষণ করা। যা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা লক্ষ্য করেছি কোনো কোনো সংগঠন রাস্তার পাশে শত-হাজার গাছের চারা রোপণ করছেন প্রতি বছর। কিন্তু মাসখানেক যেতে না যেতেই দেখছি গাছের চারাটি গবাদিপশু কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছে। কিংবা পানিশূন্যতায় গাছটি অকালে মরে গেছে। তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়িয়েছে! ফি বছর একই স্থানে আরেকটি চারা রোপণ করতে হচ্ছে।

আমরা যদি এসব বিষয় মেনে গাছের চারা রোপণ করি তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র দেশে ব্যাপক বনায়ন সৃষ্টি হবে। আর এ সামান্য নিয়মনীতি মেনে চলতে পারলেই আমরা পাব নির্ভেজাল অক্সিজেন ফ্যাক্টরি। তবে সার্থক হবে আমাদের বৃক্ষরোপণ অভিযানও।

n লেখক :বন্যপ্রাণী বিশারদ