সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম থেকে দূরবর্তী শহর—রাজশাহীর সবখানেই মাদকের আগ্রাসন। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের একটি অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে কারবার পরিচালনা করছে। একটি অংশ টাকার বিনিময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পাচার করছে। আর আরেকটি অংশ মাদক সেবন করে নিঃস্ব হচ্ছে। শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, শারীরিক এবং মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তারা। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, দিনে দিনে উদ্বেগ বাড়তে বাড়তে এখন তা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড।
মঙ্গলবার জেলার পুলিশ সুপার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, রাজশাহীতে আগের চেয়ে মাদকের মামলা বাড়ছে। বাড়ছে অন্যান্য অপরাধের মামলাও। এ নিয়ে তারা নিজেরাই উদ্বিগ্ন। মাদকের বিরুদ্ধে এখন আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, সামাজিক প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে গত সোমবার সকালে কাঁদছিলেন লিলা বেগম। একসময় কান্না থামিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, জামাতা সোহেল প্রায়ই নেশা করে তার মেয়ে রাখিকে (২৯) মারধর করতেন। মারতে মারতে অসুস্থ করে দিতেন। তার মেয়েকে খুব অত্যাচার করেছেন। রাখিকে অনেক বলেছেন, সোহেলকে ছেড়ে চলে আসতে। মেয়ে আসেনি, তার কথা শুনলে মেয়েটা মরত না। নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকার স্বামী সোহেলের বাড়িতে রবিবার রাতে রাখির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। রাখির মায়ের অভিযোগ, নেশাখোর স্বামী হত্যার পর রাখির লাশ ঝুলিয়ে রাখে। অন্যদিকে গত সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে মাদকাসক্ত স্বামী তার স্ত্রীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন। রবিবার রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার আরিজপুর মহল্লায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক শাহাবুদ্দীনের মাদকাসক্ত ছেলে সালেক আহমেদ (৩২) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার মা সেলিনা বেগমকে (৫০) হত্যা করে। পরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টার সময় এলাকাবাসী টের পেলে ঘাতক ছেলে পালিয়ে যায়। পরে কুড়িগ্রাম থেকে রাজশাহীর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে সালেক তার মাকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ জানায়, মাদক সেবনের টাকা না দেওয়ায় সালেক তার মাকে খুন করেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসপি মো. শহিদুল্লাহ আরও বলেন, সালেক মেধাবী ছাত্র ছিল। মাস্টার্স শেষ করে একটি কোম্পানিতে চাকরিও করত। কিন্তু সে প্রথমে ফেনসিডিল ও গাঁজা এবং পরে ইয়াবা ও হেরোইনে আসক্ত হয়। ফলে সে আর চাকরি করতে পারেনি। বাড়ি থেকেই টাকা নিয়ে মাদক সেবন করত। টাকা না পাওয়ায় সে তার মাকে খুন করেছে। এমন ঘটনা এড়াতে সন্তানের ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অন্যথায় পরে বড়ো মূল্য দিতে হবে।
