টাঙ্গাইলের সখীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ‘কুকুর’ সম্বোধন করে তার ছবি দিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি পোস্ট করেন এক শিক্ষার্থী।
ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ভোর রাতে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের দাড়িপাকা গ্রামে নূরুল ইসলাম (৬০) নামের সেই শিক্ষক নিজ বাড়ির রান্না ঘরে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে।
মঙ্গলবার সকালে বাড়ির লোকজন রান্না ঘরে ঝুলন্ত লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মর্গে পাঠিয়েছে। স্বজনদের দাবি, অপমান সইতে না পেরে ওই শিক্ষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
মৃত ব্যক্তি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ফেইসবুকে পোস্টদাতা খাইরুল ইসলাম (২৬) ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করে চাকরি খুঁজছেন। তিনি ওই শিক্ষকের সরাসরি ছাত্র ছিলেন।
গতকাল দুপুরে ওই শিক্ষকের ছবি দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করেন খাইরুল এবং বিকেলে দাড়িপাকা বাজারে লোকজনের সামনে তাকে অপমান করেন। ফেইসবুক পোস্টে খাইরুল লেখেন, ‘এই কুকুরকে চিনে রাখেন। শিক্ষকতার নামে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের সাথে পড়ানোর নামে বিকৃত যৌনাচার করত। এর শাস্তি অবধারিত। এর আগে পেছনে যারা সাহায্য করতেছে। তাদের লিস্ট করা হচ্ছে।’
নাম প্রকাশ না করে দাড়িপাকা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, গতকাল বিকালে দাড়িপাকা বাজারে খাইরুল সবার সামনে ওই শিক্ষককে নানা বকাঝকা দেন এবং অপমান করেন।
ওই ঘটনার পর আজ সকালে বাড়ি থেকে ওই শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, এর আগে গত ২৮ আগস্ট স্কুল আঙ্গিনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম চলমান ছিল।
স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, তার স্বামীকে স্থানীয় একটি প্রতিপক্ষ দল মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর জন্য বহুবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
মেয়ে নিপা আক্তার জানান, বাবার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ দল বারবার ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে। বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এই এলাকায় কোনো মানুষকে বলতে শুনিনি। ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে একটি রাজনৈতিক দলের ব্যানারে থাকা স্থানীয় দাড়িপাকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরিচ্যুত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন, স্থানীয় হামিদুল, খায়রুলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাবার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। বাবা সব ঘটনা আমার কাছে বলে গেছেন। স্থানীয় দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাবার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করিয়েছে জানিয়ে দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এলাকাবাসী জানান, নূরুল ইসলাম একজন ভালো মানের শিক্ষক ছিলেন। তিনি সহজ-সরল মানুষ, সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। শিক্ষক হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। আত্মহননের প্ররোচনার পিছনে যারা রয়েছে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা।
প্রধান শিক্ষক বুলবুল আহমেদ বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি একজন ভালো শিক্ষক ছিলেন। আজকে (মঙ্গলবার) তদন্ত টিম বিদ্যালয়ে আসার কথা ছিল। এর আগেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ওই শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
