সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি গর্তে পড়ে বিকল গাড়ি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:২৩

নবাবগঞ্জের বান্দুরা-শিকারীপাড়া সড়ক

 শাহিনুর রহমান, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরা ব্রিজ থেকে শিকারীপাড়া পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এলজিইডির আওতাধীন সেই ভাঙা সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনকারী এই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যায়। আর তখন পানি নিচের গর্তগুলো দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন, আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। পথচারীরাও শান্তিতে নেই। গর্তে পড়ে পা মচকে লোকজনের কাদাপানিতে আছড়ে পড়ার ঘটনা তো হরহামেশাই ঘটছে।

স্থানীয়রা জানান, বান্দুরা-শিকারীপাড়া সড়কটি দিয়ে বান্দুরা ইউনিয়নের আংশিক মানুষ এবং বারুয়াখালী, জয়কৃষ্ণপুর ও শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের এই সড়ক দিয়েই উপজেলা সদরে যেতে হয়। এছাড়া ঢাকা থেকে যাতায়াত সহজ হওয়ায় পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জের লোকজনও সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারে অতি সত্বর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকার বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টি হওয়ায় সড়কটির গর্তগুলো ছোটো ছোটো নালায় পরিণত হয়েছে। কোন গর্তের গভীরতা কতটুকু, পানি থাকায় তা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে গাড়িগুলো খুব সাবধানে চলাচল করছে। বিশেষ করে বান্দুরা ব্রিজের ঢালের সৃষ্টি হওয়ায় বড়ো গর্তের কারণে বিপাকে পড়েছেন গাড়িচালক ও যাত্রীরা। খুব সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালালেও গত কয়েক দিনে ৫/৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী প্রদীপ বণিক বলেন, বৃষ্টি হলেই বেশি সমস্যা হয়। ব্রিজের ঢালে সৃষ্ট বিশাল গর্তে যানবাহন উলটে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্ত সড়কটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। অটোরিকশা চালক আলমগীর বলেন, বান্দুরা থেকে শিকারীপাড়া বা বেড়িবাঁধ যেতে মন চায় না। রাস্তা এতই খারাপ যে সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি কখন জানি গাড়ি উলটে যায়। এছাড়া বান্দুরা ব্রিজের ঢালের বিশাল গর্তের কারণে বেড়ে গেছে যানজট। বান্দুরা ইউপি চেয়ারম্যান হিল্লাল মিয়া বলেন, নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলের মানুষদের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি সড়কটি মেরামতের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে কয়েকবার বলেছি। তারা গুরুত্ব সহকারে দেখলেই কাজটা হয়ে যায়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান বলেন, আমি রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত। দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।