আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
কড়াই থেকে গরম পুরি তোলা হচ্ছে। তেল ছেকে পুরি রাখা হচ্ছে কাঠের বাক্সের ভেতর। ‘ঐ দুইটা পুরি দে। দুইটা সিঙ্গারাও দে।’ এরপর শোনা গেল, ‘এগুলি কি দিলি। কালকের পুরি দিলি কেন। ঐ গরম পুরি দে।’ হোটেল বয় বললো, ‘খাইয়া লাও ফিরি। চা এর দাম দিলেই অইবো।’ মধ্যবয়স্ক লোকটি বললো, ‘নারে প্যাটোত গ্যাস অইবো। বাসি পুরি মাগনা দিলেও খাইনা। আমারে দুইটা গরম পুরিই দে। নাইলে হুদা চা দে।’ হোটেল বয় এবার বাসি পুরি বদলে গরম পুরি দিল। রিকশাচালক চা ও পুরি খেয়ে চলে গেলেন। এই চিত্র আড়াইহাজারের গোপালদী বাজারের একটি রেস্তোরাঁর।
প্রতিদিনই এমন ঘটনা চোখে পড়ে। বিষয়টা সকলের কেমন যেন গা সওয়া হয়ে গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে গড়ে ওঠা হোটেল রেস্তোরাঁয় পচা-বাসি খাবার বিক্রি হয়। যা খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার আড়াইহাজার সদর বাজার, গোপালদী বাজার, কামরানীরচর, মানিকপুর, চৈতনকান্দা, ফেরিঘাট, জাঙ্গালিয়া , উচিত্পুরা, কালিরহাট, কালিবাড়ী, দুপ্তারা, তিলচন্দ্রদী, বিশনন্দী, দয়াকান্দা, পুরিন্দা, পাঁচরুখী, ইলমদী বাজারসহ প্রায় সকল বাজারেই বিক্রি হচ্ছে পচা-বাসি খাবার। অনেক হোটেলেই একদিনের খাবার অন্যদিন বিক্রি করে থাকে। তাছাড়া রেস্তোরাঁর পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা। কিন্তু কোনো বিকল্প না থাকায় লোকজনকে একরকম বাধ্য হয়েই এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় ভালো দাম দিয়ে খারাপ খাবার খেতে হচ্ছে। হোটেলগুলোর নিয়মিত চিত্র খাবার ঢেকে না রাখা। সব সময় মাছি উড়তে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজারের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জল হোসেন বলেন, আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। তবে গ্রামের মানুষের সচেতন হতে হবে। মানুষ খোলা ও বাসি খাবার বর্জন করলে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরাও বদলে যেতে বাধ্য হবে। হোটেলগুলোতে আমাদের মনিটরিং চলবে।
২ কেজি গাঁজাসহ মাদক
কারবারি গ্রেফতার
আড়াইহাজারে ২ কেজি গাঁজাসহ মো. আব্দুল মতিন (৬০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। এ সময় তার কাছ থেকে গাঁজা বিক্রির ১৫৬০ টাকা ও মোবাইলফোন জব্দ করা হয়। গতকাল শুক্রবার তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। বুধবার রাতে উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
