টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে টানানো ঘোষণায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক র্যাগিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। র্যাগিংয়ের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং র্যাগিংয়ের শিকার ছাত্র-ছাত্রীর শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় কেউ যদি র্যাগিং করে বা র্যাগিং করতে উদ্বুদ্ধ করে মর্মে অভিযোগ পাওয়া যায় তবে তাকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নবাগত শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করছে। চলাচলে যে কাউকে দেখা মাত্রই তারা সম্মিলিতভাবে জনে জনে সালাম দিতে দেখা যায়। সম্মিলিত সালামের প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের অনেকে সিনিয়ররাও বিব্রতবোধ করছে বলে জানা যায়। নবাগত শিক্ষার্থীদের এমন দলবদ্ধভাবে চলাচল ও জনে জনে সালাম দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশদাতার কথা বলতে নারাজ নবাগত শিক্ষার্থীরা ।
প্রশাসনের এমন কঠোর ঘোষণার পরও ক্যাম্পাসে র্যাগিং হচ্ছে কিনা তা জানতে চাইলে কয়েকজন নবাগত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় দৈনিক ইত্তেফাকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নবাগত শিক্ষার্থী জানান, আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র ভাই-আপুরা তিন চারজন আমাদের ক্লাসে আসেন, তারপর আমাদের ক্যাম্পাসে কীভাবে চলতে হবে তা নিয়ে বলেন।
নবাগত শিক্ষার্থীর এই বিষয়ে কথা বলার সময় বেশ ভয় ও সংকোচবোধ লক্ষ্য করা যায়। নতুন পরিবেশে নবাগত শিক্ষার্থীদের এমন ভয়, সংকোচবোধ কিভাবে কাটানো যায়, এমন পরামর্শে ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. চাঁদ সুলতানা খাতুন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার পরামর্শ, তোমরা যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে অথবা কারো দ্বারা হয়রানির শিকার হলে তোমরা নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষকদের জানাবে। মনে রাখতে হবে, পিতামাতার মতো শিক্ষকেরা তোমাদের অভিভাবক। আর প্রতিটি শিক্ষকের উচিত নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নেয়া। কারণ নতুনরা ভয় ও জড়তার কারণে অনেক কিছু শেয়ার করতে চায় না আমাদের।
নবাগত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কিভাবে পাশে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থী কল্যাণ পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক ড. ফজলুল করিম বলেন, নবাগত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবে। তাদেরকে একাডেমিক গাইডলাইন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং ক্যাম্পাসে সহজ অভ্যস্ততার জন্য বিভিন্ন ওরিয়েন্টেশন ও কর্মশালার আয়োজন করবে। প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সমৃদ্ধ শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ ইমাম হোসেন বলেন, র্যাগিংয়ের অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দোষী যেই-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আক্ষরিক অর্থে জিরো টলারেন্স।
