ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডে যুক্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন ভারতের মানচিত্র থেকে বাংলাদেশের মানচিত্রে স্থান করে নেওয়া বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও এবারই প্রথম তারা সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশ পরিচালনার প্রতিনিধি নির্বাচনে নাগরিক অধিকার প্রয়োগের এমন সুযোগে নতুন এই নাগরিকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা। পুরো দেশের মানুষের মতো তারাও ভোট উত্সবে মেতে উঠেছেন। যে প্রার্থী ছিটমহলের জীবন-মান উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন তাকেই তারা ভোট দিতে চান।
ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে চায়ের দোকানে ও বাজারের আড্ডায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নাগরিকদের মাঝে নানা জল্পনা-কল্পনা। চায়ের কাপের চুমুকের ফাঁকে ভোটারের দৃষ্টি খবরের কাগজে। কারও চোখ পত্রিকায় আবার কারও বা চোখ টেলিভিশনে প্রচারিত নির্বাচনী খবরে। আবার কেউ বা আলাপ-আলোচনায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার হাওলাদার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, দাসিয়ারছড়াসহ উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৪১১ জন। পুরুষ ভোটার ৬২ হাজার ৩০১ জন ও নারী ভোটার ৬৪ হাজার ১১০ জন। এদের মধ্যে বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ১৭২ জন। পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৫৯০ জন ও নারী ভোটার ১ হাজার ৮২ জন। উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ৫০টি। বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়াবাসী পাঁচটি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
দাসিয়ারছড়ার সমন্বয়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান শেখ ও সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, জীবনে এই প্রথম বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবো। তাই খুব খুশি লাগছে। আমরা দীর্ঘ ৬৮ বছর থেকে পাশের লোকজনদের ভোট দিতে যাওয়া দেখেছি। কিন্তু আমরা ভোট দিতে পারিনি। এবার আমাদের আশা পূরণ হবে। পরিবারের অন্য ভোটারদের সাথে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাব।
দাসিয়ারছড়ার কামালপুর গ্রামের তরুণ ভোটার রাধা কান্ত রায়, আমিনুল ইসলাম, শরীফউদ্দিন, আব্দুল হাই ও মনিরুজ্জামান জানান, আমরা দীর্ঘদিন অন্ধকারে থেকে আলোর পথে ফিরে এসেছি। এটা শুধু সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবো এবং আবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রধান হয়ে সারা দেশের মতো বিলুপ্ত ছিটমহলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন এই কামনাই করছি।
ছিটমহল আন্দোলনের নেতা মইনুল হক ও গোলাম মোস্তফা খান জানান, যে সংসদের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘ ৬৮ বছর পর মুক্তি পেয়েছি। সেই সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারছি বলেই আজ অনেক আনন্দ লাগছে। তবে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পারলে আরও বেশি আনন্দ লাগতো। কুড়িগ্রাম-২ আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকায় আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহাজোটের মনোনীত প্রার্থীকে আনন্দের সঙ্গে ভোট প্রদান করবো।
