ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরে দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ডানকান এখন ভূমধ্যসাগরে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে এই যুদ্ধজাহাজটি এইচএমএস মনট্রোসের সঙ্গে যোগ দেবে। খবর:বিবিসি।
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসার পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতিকালে হরমুজ প্রণালীর কাছে ছয়টি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনার এক পর্যায়ে গত মাসে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান। এ ঘটনার পর অল্পের জন্য বড় ধরনের সংঘাত এড়িয়েছে দুই দেশ। এই উত্তেজনা প্রশমিত হতে না হতেই এবার ব্রিটেনের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে ইরান! চলতি মাসের শুরুতে জিব্রাল্টার প্রণালীর কাছে ইরানের গ্রেস ওয়ান তেল ট্যাংকার আটকে সহায়তা করে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন সেনারা। এ ঘটনায় ইরান ব্রিটেনকে দায়ী করে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। এরই মধ্যে বুধবার ইরানের কয়েকটি নৌযান একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ব্রিটিশ রয়্যাল নৌবাহিনীর জাহাজ তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়। এর প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের জলসীমায় নিজেদের জাহাজ চলাচলের উপর হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ করেছে যুক্তরাজ্য। তারা বলছে, হামলার হুমকি ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়েছে। এরপরই পারস্য অঞ্চলে দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে ব্রিটেন। হরমুজ প্রণালীর কাছে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তার জন্য এই যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীর কাছে সংকটকে কেন্দ্র করে উপসারগীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে মার্কিন সেনাদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পর মিত্রদেশ ব্রিটেনও তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নেওয়ায় ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম রণতরীর কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জিম ম্যালয় বলেছেন, বাণিজ্যের মুক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করতে রয়্যাল নৌবাহিনীর সাথে মিলে কাজ করা হবে। যদিও বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে কোনোভাবেই একটি সম্মুখ সমরে যেতে চায় না ব্রিটিশ সরকার। আবার উপসাগরীয় এলাকায় ব্রিটিশ পতাকাবাহী জাহাজগুলোর চলাচল বেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সেটাও অবহেলা করতে পারে না।
এদিকে ইরানি ট্যাংকার গ্রেস ওয়ানের আটক চার ক্রুকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জিব্রাল্টার পুলিশ। তেলবাহী ওই সুপার ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন ও চিফ অফিসারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার দিনের প্রথমভাগে তারা ট্যাংকারটির বাকি দুই সেকেন্ড মেটকে আটকের কথা জানালেও কয়েক ঘণ্টা পর চার জনকেই ছেড়ে দেয়। তবে চার ক্রুকে কোন শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত জানানো হয়নি।
