দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও দুধে মিলেছে অ্যান্টিবায়োটিক

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:২৮

দুধকে বলা হয় আদর্শ সুষম খাবার; কিন্তু সেই দুধেই মিলছে অ্যান্টিবায়োটিক। পাঁচ কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধে মিলেছে এই অ্যান্টিবায়োটিক। দুই দফা করা এই পরীক্ষায় পাওয়া গেছে চার ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। এগুলো হচ্ছে:অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, অ্যানরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন। প্যাকেটজাত পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বয়ে আনবে। কারণ কোনো প্যাকেটেই উল্লেখ নেই কি পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক দুধে রয়েছে। ফলে এই দুধ শিশু ও বয়স্ক যারাই গ্রহণ করবে তারাই শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে বাধ্য।

এর আগে গত জুন মাসে প্রথম দফায় ঐ পাঁচ কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধ পরীক্ষায় দুটি অ্যান্টিবায়োটিক মেলে। দ্বিতীয় দফা দুধের নতুন দশটি নমুনা পরীক্ষা করে এই অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আবম ফারুক। তিনি বলেন, সর্বমোট ১০টি নতুন নমুনা একই নিয়মে একই উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলাফল আগের মতোই উদ্বেগজনক। এবারও দশটি নমুনাতেই অ্যান্টিবায়োটিক শনাক্ত করা গেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের মোট সংখ্যা ৪টি। ১০টি নমুনার মধ্যে তিনটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চারটি, ছয়টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে তিনটি এবং একটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দুটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. জুবায়ের চিশতী ইত্তেফাককে বলেন, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক থাকার কারণে শিশুদের কিডনি ও লিভার আক্রান্ত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তা ডা. এস এম ফারুক বলেন, কিছু কিছু খাবারে অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে। সেই অ্যান্টিবায়োটিক স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কি পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে তা প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ করতে হবে। এগুলোর যদি উল্লেখ না থাকে তাহলে একজন ক্রেতার পক্ষে জানা সম্ভব নয় কি পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক তিনি ঐ খাদ্য থেকে গ্রহণ করছেন। ফলে ঐ খাবার খেয়ে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে তার পক্ষে জানা সম্ভব নয় কি কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফলে প্যাকেটের গায়ে অ্যান্টিবায়োটিকের পরিমাণ উল্লেখ করতেই হবে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন বলেন, এমনিতেই অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর। তারপরও প্রয়োজন নেই; কিন্তু খাবারের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে প্রবেশ করছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

গতকাল শনিবার আবম ফরুক এক বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জানান, আমরা ভবিষ্যতেও এই পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষাগুলোর ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশ করার চেষ্টা করব। আমরা আশাকরি আমাদের প্রকাশিত এসব তথ্যসংশ্লিষ্ট দুধ উত্পাদনকারী কোম্পানিগুলোকে নিজেদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে এবং দেশে দুধের মানের উন্নতি ঘটাবে। উপরন্তু জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক এই সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে বিশেষ কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে আর বিদেশি চক্রান্ত খুঁজতে হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের এই অধ্যাপক গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাতটি প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোতে মানুষের চিকিত্সায় ব্যবহূত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানান।