কাফরুল থানার সেই এসআই সাসপেন্ড

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৩২

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করতে গেলে বাবা মোজাম্মেল হাওলাদারের কাছ থেকে কাফরুল থানার দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বেপারি ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। শুধু তাই নয়, ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডে তার কথোপকথন ছিল অপেশাদার।   ধর্ষণ মামলার আগে ভুক্তভোগীর বাবার কাছ থেকে টাকা নেওয়া ও অপেশাদার আচরণ করায় কাফরুল থানা থেকে প্রত্যাহার করা ঐ এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

গত ২১ মে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী বাবার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দ্বিতীয় শ্রেণির ঐ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সুমন খান। ঐ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উত্তেজিত জনতা ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত সুমনকে মারপিট করে।

পরদিন ২২ মে রাতে শিশুর বাবা মোজাম্মেল হাওলাদার কাফরুল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশের এসআই আব্দুল কুদ্দুস বেপারি টাকা দাবি করেন। তিনি বলেন, টাকা লাগবে। টাকা ছাড়া মামলা চালানো সম্ভব নয়। দরিদ্র ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার হাজার টাকা আদায় করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেফতার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেন।

বিষয়টি জানার পর একই এলাকার বাসিন্দা ও ‘সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান আনোয়ার-ই-তাসলিমা প্রথা ফোনে কথা বলেন ঐ এসআইয়ের সঙ্গে। তিনি থানায় উপস্থিত হয়ে চাপ প্রয়োগ করে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করেন। অভিযুক্ত এসআই টাকা ফেরত দেন ২৩ মে রাতে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন ডিএমপির কাফরুল থানার এসআই আব্দুল কুদ্দুস বেপারি। টাকা নেওয়া-সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড ফাঁস এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর এসআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে। এমন দাবির প্রেক্ষিতে এসআই কুদ্দুসকে প্রত্যাহার করে মিরপুরের উপ-কমিশনার (ডিসি) কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। গঠন করা হয় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। গত ১০ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি। সেখানে কুদ্দুসকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এসআই কুদ্দুসের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) খাইরুল আমিন বলেন, ‘এসআই কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর একটি রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। তদন্ত শেষ করে গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিস্তারিত আমরা রিপোর্টে বলেছি।

গতকাল শনিবার বিকালে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এসআই কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে তার আচরণ পেশাদার ছিল না। তার এ ধরনের ভুল শাস্তিযোগ্য।’ তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। ঐ এসআইকে সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) করা হয়েছে।