নির্যাতন থেকে বাঁচতে

সপ্তম তলা থেকে রশি বেয়ে পালাতে গিয়ে দুই শিশু গৃহকর্মী আহত

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৩২

গৃহকর্তার নিয়মিত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাসার সপ্তম তলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালানোর সময় দুই শিশু আহত হয়েছে। ওই দুই শিশুর নাম স্বপন (১১) ও শরীফ (১২)। তারা দুজনই ধানমন্ডির ১৪/এ সড়কের ২৮ নম্বর বাড়ির ৭/এ ফ্ল্যাটে গোলাম কিবরিয়ার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। পুলিশ এঘটনায় গৃহকর্তাসহ চারজনকে আটক করেছে।

জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটের মালিক গোলাম কিবরিয়া ও ফেরদৌসী বেগম দম্পতি। কিবরিয়া সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। স্বপন এবং শরীফ   দুজনই ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করে। তাদের মধ্যে শরিফ ৮/১০ দিন আগে কাজে যোগদান করে। আর স্বপন দেড় বছর ধরে কাজ করে। আহত শরিফ সাংবাদিকদের জানিয়েছে, ঐ বাসার লোকজন তাদের মারধর করত। তাদেরকে বাসার বাইরে যেতে দিত না। তাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালাতে চেয়েছিল তারা।

ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কাজল মিয়া বলেন, সকালে শরিফ ও স্বপন নামে বাসার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালাতে গিয়ে একজন নীচে পড়ে যায়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্বপনকে ষষ্ঠ তলার জানালার সাথে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গৃহকর্তার গাড়ি চালক মো. খায়রুল মিয়া বলেন, শরীফ ও স্বপন কিবরিয়ার বাসায় কাজ করতেন। সকালে তারা দুজনই এডজাস্টারের ফাঁক দিয়ে রশি দিয়ে নীচে নামার সময় একজন প্লাস্টিকের চালের ওপর পড়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, কিবরিয়ার বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায়। সেখানে তার ব্রিকফিল্ড রয়েছে। আর আহতের বাড়িও একই এলাকায়। শরীফের বাবার নাম রফিক মিয়া।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রশি বেয়ে নামার সময় পড়ে শরীফের বাম পা ভেঙে গেছে, আঘাত রয়েছে। তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়েছে।

ডিএমপির ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হেল কাফী বলেন, স্বপন এবং শরীফের শরীরে মারধর ও নির্যাতনের আলামতও পেয়েছি। সম্প্রতি নির্যাতনের কারণে তারা একবার মূল দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে সিঁড়িতে তাদের ধরে মারধর করেন গৃহকর্তা। তাই এবার তারা টয়লেটের অ্যাডজাস্টার খুলে কাপড় শুকানোর রশি দিয়ে নামার চেষ্টা করে।