গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহিদুল ইসলামের সাথে ইউপি সদস্যদের দ্বন্দ্বের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ইট-পাটকেলের আঘাতে পথচারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৩জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া এ সময় বেশ ৭-৮ মোটরসাইকেল ও দোকান ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন থেকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পরিষদের ওই ইউপির জামাত সমর্থিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহিদুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে ইউপি সদস্যদের দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১৮নভেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা ওই চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। এই বিষয়ে শুরু থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা ইউপি সদস্যদের পক্ষ নেয়। অপরদিকে স্থানীয় জামাত নেতারা নেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহিদুল ইসলাম বাবুর পক্ষ।
সূত্রটি আরও জানান, বুধবার বিকেলে এই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় তার কার্যালয়ে এক সমঝোতা বৈঠক শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় হলে সমঝোতা বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে উভয়পক্ষ লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন চৌমাথা মোড়ে অবস্থান নেয়। এবং তারা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এছাড়া ৮টি মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ইট-পাটকেলের আঘাতে পথচারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সমঝোতা বৈঠক পণ্ড হওয়ার পর চেয়ারম্যান রাহিদুল ইসলামসহ তাদের লোকজন বের হয়ে যাওয়ার সময় বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করে। এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তাদের ৩-৪ আহত হয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে মুঠফোনে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশবাড়ী পৌর এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম লিয়াকত জানান, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে অস্ত্রহাতে তাদেরকে ধাওয়া করে। এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাদের ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান জানান, আজ বুধবার বিষয়টি শুনানির জন্য ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান রাহিদুল ইসলাম ও ইউপি সদস্যদের তার দপ্তরে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এই শুনানির মধ্যে হঠাৎ দুই দলের নেতাকর্মীরা প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে তারা হট্টগোল শুরু করে।
তিনি আরও জানান, তখন তিনি তার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে রাতে বাহিরে এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ওসি জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ও সেনাবাহীনির টহল জোরদার করা হয়েছে।
