ফুলবাড়ীতে ১৩ দিন ধরে খেয়াঘাট বন্ধ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮

চরম দুর্ভোগে হাজার হাজার মানুষ

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর খেয়াঘাটে (ঘেরুরঘাট) ১৩ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীর দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। এই খেয়াঘাট থেকে লালমনিরহাট জেলা শহরের দূরত্ব কম হওয়ায় প্রতিদিনই উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট, পশ্চিম-ফুলমতি, গোরকমন্ডল, চর-গোরকমন্ডল এলাকার শত শত মানুষ এই ঘাট দিয়ে লালমনিরহাটে যাতায়াত করে।

গোরকমন্ডল বিডিআর বাজার ও আনন্দ বাজারের মুদি দোকানদার, কাপড় ব্যবসায়ী ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে দোকানের মালামাল ক্রয় করে এই ঘাট দিয়েই বাজারে আসে। কলার আড়ত হিসেবে খ্যাত চর-গোরকমণ্ডল এলাকার কলা ব্যবসায়ীরা জীবন-জীবিকার তাগিদে এই ঘাট পাড়ি দিয়ে লালমনিরহাট সদর উপজেলাসহ মোগলহাট, দুরাকুটিহাট, মেগারাম, ভাটিবাড়ি ও কোদাল খাতা হাট-বাজারে গিয়ে কলা বিক্রি করে। তাছাড়া লালমনিরহাট সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধশত শিক্ষার্থী এই ঘাট দিয়ে প্রতিষ্ঠানে যায়। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ দিন থেকে খেয়াঘাট বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

শনিবার দুপুরে ঘেরুরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু মানুষ নৌকায় করে ধরলা নদী পাড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সকাল থেকে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঘাটের ইজারাদার বা নৌকার মাঝি কারো দেখা না পেয়ে অনেকেই হয়রান হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, লালমনিরহাট জেলার মিজান মিয়া নামের এক ব্যক্তি কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ হতে মানুষ, যানবাহন ও মালামাল পারাপারের জন্য ঘেরুরঘাট ৭০ হাজার টাকায় ইজারা নেন। নিয়ম অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে ঘাট পরিচালনা কথা থাকলেও ১৩ জুলাই পর্যন্ত তা চালু হয়নি। আর পুরাতন ইজারাদার ওবাইদুল হক তার নৌকা ও ঘর সরিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন পারাপারকারী ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

লালমনিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া, নুরনবী, মুদি দোকানদার নুর ইসলাম, আশরাফ আলী জানান, ঘাট বন্ধ থাকায় ১৩ দিন ধরে স্কুল কলেজ যেতে পারছি না। আনতে পারছি না দোকানের মালামাল।

কলা ব্যবসায়ী নুর ইসলাম মগর আলী জানান, ১৩ দিন ধরে ঘাট বন্ধ থাকায় কলা বাড়িতে পচে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে পানির দামে কলা বিক্রি করছি।

ঐ এলাকার শিক্ষক রেদওয়ানুল ইসলাম, বাসিন্দা মতিয়ার রহমান জানান, ঘাট পারাপার ১৩ দিন ধরে বন্ধ থাকায় দ্রুত ঘাট চালুর জন্য গত ৮ জুলাই কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে শত শত মানুষের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ঘাট চালু হচ্ছে না।