স্থান জটিলতায় স্থবির ময়মনসিংহের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০১:০৩

২০২২ সালের জুলাইয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ১২২ কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ সাত মাস বাকি থাকলেও স্থান জটিলতায় এখনো বাকি ৮০ শতাংশ কাজের বাস্তবায়ন। ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী।

প্রকল্পের দুর্বলতার দিকটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ও ময়মনসিংহ সিটির প্রশাসক মো. মোখতার আহমেদ।

জানা যায়, প্রকল্পের অধীনে চেইন এক্সকাভেটর, মোবাইল ওয়েস্ট কনটেইনার, চেইন ডোজার, ল্যান্ডফিল কম্প্যাক্টর সরবরাহসহ বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, পাবলিক টয়লেট, কম্পোস্ট প্ল্যান্ট, পাম্প হাউজ, ডাস্টবিন ও স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ করার কথা রয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব বর্জ্য সংগ্রহ, অপসারণ, প্রক্রিয়াকরণ, মেশিনারি ও যান্ত্রিকব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে বর্জ্য পরিবহনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পয়ঃবর্জ্য-ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ করার কথা থাকলেও তা হয়নি।

এদিকে উপযুক্ত স্থান না পেয়ে প্রকেল্পর গণশৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদের জায়গায়। এ সিদ্ধান্তকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। গতকাল বুধবার ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে 'ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন' নামে একটি সংগঠন
সংবাদ সম্মেলন করে ব্রহ্মপুত্র নদের জায়গা গণশৌচাগার নির্মাণকে অযৌক্তিক ও বেআইনি দাবি করে সেগুলো অপসারণের দাবি করেছে। সংগঠনটির দাবি, উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে ব্রহ্মপুত্র নদকে রক্ষা করে তা পরিকল্পিতভাবে হতে হবে।

প্রকল্পের ৩৫টি গণশৌচাগার, ২০০ ডাস্টবিন এবং ২০টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. তানিম হোসেন বলেন, 'কাজে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনগণের জন্য কাজ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে কাজ করতে সমস্যা হতো না।'
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা জানান, দুই বছর আগে শুরু হওয়া ১২২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ হয়েছে কেবল ২০ শতাংশ। ফলে কোনো সুফলই পাচ্ছে না নগরবাসী। উলটো স্থান জটিলতায় থমকে গেছে পুরো উদ্যোগ।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মোখতার আহমেদ প্রকল্পের এ দুর্বলতার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, স্থান নির্ধারণ করে প্রকল্প না নেওয়া হলে অবশ্যই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে।

ইত্তেফাক/এনএন