শিরোপার লড়াইয়ে দুই দলেরই সমান সুযোগ দেখছে নিউজিল্যান্ড দল। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির কোচ গ্যারি স্টিড জানান, ম্যাচটিতে কোনো দলই পরিষ্কার ফেভারিট কিংবা আন্ডারডগ নেই।
গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে দারুণ এক দল হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ৩৫০ রানকে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার বানিয়ে ফেলা ইংলিশরা এ সময়ে চার শতাধিক রানও করেছে অন্য সব দলের চেয়ে বেশি।
তাদেরই মাটিতে ফাইনাল খেলার আগে নিউজিল্যান্ড কোচ ম্যাচটিতে কেন উইলিয়ামসনদেরও সমান সুযোগ দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানিনা, এখানে কে আন্ডারডগ। এটা গণমাধ্যম নির্ধারণ করবে। জেতার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়েই এই ম্যাচে নামতে যাচ্ছি আমরা এবং রবিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের চেয়ে কিছুটা ভালো খেলতে হবে আমাদের।’ বিশ্বকাপের শুরুটা টানা তিন ম্যাচ জিতে করলেও মাঝে ছন্দপতন ঘটে দলটির। শেষে পাকিস্তানের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হওয়া সত্ত্বেও শ্রেয়তর রান রেটের কারণে সেমিতে আসে উইলিয়ামসনের দল। কিন্তু শেষ চারের দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ভারতকে ১৮ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত লড়াইয়ে পা রাখে নিউজিল্যান্ড। মাঝের ছন্দপতন সত্ত্বেও দল যেভাবে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তার তারিফ করেন স্টিড। তিনি বলেন, ‘দলের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। তারা বেশ লড়াকু মনোভাবাপন্ন এবং মানসিকভাবে বেশ দৃঢ়।’
ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২৪০ রান সংগ্রহ করেও জয় পাওয়ার ব্যাপারটিকে উল্লেখ করে স্টিড জানান, ইংল্যান্ডকে হারাতে নিখুঁত খেলার প্রয়োজন নেই তার দলের। তিনি বলেন, ‘নিখুঁত খেলার প্রয়োজন নেই আমাদের। শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। বিশ্বকাপের আগে ৩৫০ রান নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। আমরা একটা ম্যাচেও তা করতে পারিনি। কিন্তু পরিস্থিতির সঙ্গে ঠিকই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছি আমরা।’ বিশ্বকাপ ফাইনাল সব সময় সব দলের জন্যই বেশ চাপের একটা ব্যাপার। নিউজিল্যান্ড কোচের ধারণা, চাপটা ইংল্যান্ডের ওপরই বেশি থাকবে। তিনি বলেন, ‘দুই দলের ওপরই চাপ আছে। দুটি দলই কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি। কিন্তু ভারতের সঙ্গে ইংল্যান্ডকেও যেহেতু সম্ভাব্য বিশ্বকাপ জয়ী দল হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেহেতু ইংল্যান্ডের ওপর হয়তো এটা বেশি চাপ সৃষ্টি করে থাকতে পারে।’
চলতি আসরে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। শেষটির ফলে আজকের ফাইনালে উঠতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে আসার পথে শ্বাসরুদ্ধকর জয়গুলোই বেশি তৃপ্তি দিয়েছে স্টিডকে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। বাকি সবাইকে জিজ্ঞেস করলেও একই উত্তর পাবেন আপনি। আমি মনে করি না আমাদের কেউ ফলাফলে খুব বেশি মনোযোগ দেয়। আমরা খেলতে নামি এবং নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করি। এ সময়ে আমরা এটা বুঝেছি যে সব সময়ই নিখুঁত ক্রিকেট খেলার প্রয়োজন নেই আপনার।’
