ইংল্যান্ডের মাটিতে গত দেড় মাসে ৪৭ ম্যাচটি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেট এখন শেষের বিন্দুতে। টুর্নামেন্টের ৪৮তম ম্যাচে আজ ট্রফির লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। আজ ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। অতীতের ১১ আসরে এ দুটি দল ট্রফির স্বাদ পায়নি। আজ তাই নিশ্চিতভাবেই নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে ক্রিকেট বিশ্ব।
ক্রিকেট দুনিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলবে ইংলিশরা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই টপ ফেবারিট ছিল তারা। গত চার বছরে ওয়ানডেতে ঈর্ষণীয় ক্রিকেট খেলা ইয়ন মরগানের দল সত্যিই ট্রফির দাবিদার। কিছুটা চড়াই-উতরাই পার করলেও বিশ্বকাপে দাপুটে ক্রিকেটই খেলেছে ইংল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে জ্যাসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট, ইয়ন মরগানরা এবং বোলিংয়ে জফরা আর্চার, ক্রিস ওকস, মার্ক উডরা দারুণ ছন্দে আছেন। হোম কন্ডিশন, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা মিলে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড।
এর আগেও বিশ্বকাপে তিনবার (১৯৭৯, ১৯৮৭, ১৯৯২) ফাইনাল খেলে ট্রফি জিততে পারেনি ইংলিশরা। ২৭ বছর চতুর্থ বিশ্বকাপ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মরগানের দল। সময়ের অন্যতম সেরা ও ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়েই নামবে ইংল্যান্ড।
বাংলাদেশের প্রথম টি-২০ ম্যাচের অধিনায়ক, বিশ্বকাপ জুড়ে ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা শাহরিয়ার নাফিস মনে করেন, এটাই ইংল্যান্ডের সেরা সুযোগ। আজকের ফাইনালে তার ফেবারিট মরগান বাহিনী।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলা রুবেল হোসেনও ট্রফি দেখতে চান মরগানের হাতে। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন এই ফাস্ট বোলার।
নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিল নিউজিল্যান্ড ২০১৫ সালে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল কিউইরা। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছে তারা। কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে এবার ট্রফিসমেতই দেশে ফিরতে চায় নিউজিল্যান্ড।
যদিও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিচারে ইংলিশরাই এগিয়ে থাকবে। লিগ পর্বে ৯ ম্যাচে ৬টি জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে আসে স্বাগতিকরা। সমান ম্যাচে ৫টি জয় নিয়ে নিউজিল্যান্ড সেমিতে খেলেছে। দুই দলের মধ্যে মরগানের দলই ছিল ব্যাটে-বলে বেশি ধারাবাহিক।
ঠিক এই কারণে শাহরিয়ার নাফিস এগিয়ে রাখছেন স্বাগতিকদের। গতকাল ফাইনালের ফেবারিট প্রশ্নে বাঁহাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘ইংল্যান্ড এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছে। তাদের পারফরম্যান্সে দাপট ছিল। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে উঠলেও তারা কিন্তু ধারাবাহিকভাবে দাপুটে ক্রিকেট খেলতে পারেনি। লিগ পর্বে দেখবেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটিংয়েই কিন্তু দলটা সেমিতে এসেছে। সেমিতে ওদের বোলাররা জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু ইংল্যান্ড টুর্নামেন্ট জুড়েই বেশ ধারাবাহিক ছিল। আমার মনেহয়, ব্যাটিং-বোলিংয়ে ধারাবাহিকতার দিক থেকে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। এ কারণেই আমার মনেহয় কালকের (আজ) ফাইনালে ইংল্যান্ডই ফেবারিট।’
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে ফাইনাল সম্পর্কে রুবেল বলেছেন, ‘আমার ফেবারিট ইংল্যান্ড। ওদের মাটিতেই খেলা। ওরা হোমে খেলবে। ব্যাটিং, বোলিং মিলে ওদের দলটাও দারুণ। এই দুই বিভাগেই ওরা এগিয়ে আছে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে। ওদের বিশ্বকাপ জেতাও উচিত।’
