যশোরে ‘স্মার্ট’ চোরচক্রের চার সদস্য আটক!

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৪৪

ত্রিপল টানিয়ে দুপুরে সোনার দোকানে চুরি

আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস

যশোরের গোয়েন্দা পুলিশ ‘স্মার্ট’ চোরচক্রের চার সদস্যকে প্রযুক্তির সহায়তায় তিন জেলা থেকে আটক করেছে। গত ২৭ জুন যশোরে একটি সোনার দোকানে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতদের গতকাল শনিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। এসময় ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রাব্বানী।

আটক চোরচক্রের সদস্যরা হলো—রাঙামাটির কাউখালি উপজেলার রাঙ্গীপাড়া গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে আব্দুর রহিম বাদশা (২৬), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি গ্রামের মোশারফের ছেলে সোহেল ওরফে মোটা সোহেল (২৬), কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ইউসুফনগর গ্রামের তারু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল (১৭) ও একই গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের ছেলে সুমন (১৬)। আটক চোরেরা স্বীকার করেছে—তিনদিন ধরে জুয়েলার্সের মালিক অমিত রায় আনন্দকে অনুসরণের পর দুপুরের সময়টি নির্ধারণ করে নয় মিনিটেই এই চুরি করে পালিয়ে যায় ওরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, কোতোয়ালী মডেল থানার কাছে প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্সে বিকেল ৩টা হতে ৪টার মধ্যে চুরিটি সংঘটিত হয়। চুরির ঘটনায় খোয়া যায় ৩৭ ভরি সোনাসহ নগদ আড়াই লাখ টাকা।

তিনি জানান, এই অপারেশনের জন্য গ্যাংলিডার আবদুল তিন মাস আগে কুমিল্লা থেকে যশোর এসে দোকান নির্বাচন করে। চুরির তিন দিন আগে ৯ সদস্যের দলকে যশোরে এনে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়। চুরির ঘটনার দিনই থানায় মামলা হলে অভিযানে নামে পুলিশ।

পরিদর্শক মো. আল মামুনের নেতৃত্বে যশোর ডিবির একটি দল ১১ জুলাই বিকেলে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে মো. আব্দুর রহিম বাদশা ও সন্ধ্যায় বাকলিয়া থানা থেকে মো. সোহেলকে আটক করা হয়। একইসাথে সোহেলের বাড়ির আলমারি থেকে চুরি যাওয়া দেড় লাখ টাকা, ৩ ভরি ৭ আনা সোনা ও সোনা মাপার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরদিন ভোরে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা থেকে উজ্জ্বল ও সুমনকে আটক করে। এই চক্রের অপর ৭ সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রাঙামাটির রুবেল, ছোটো সুমন ও বড়ো সুমন, ছোটো বাদশা, বাবু ও আলাউদ্দিনকে গ্যাংলিডার আবদুলসহ চিহ্নিত করা হয়েছে।