নুশরাত রুমু
পাশের বাসার আন্টির বিবাহবার্ষিকী। দাওয়াত পেয়ে সন্ধ্যায় সেজেগুজে তাঁর ফ্ল্যাটে যাচ্ছি। হঠাত্ দেখি, সিঁড়ি দিয়ে আমার আগেই সবুজ চুলের একটি মেয়ে উঠে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমার চোখে কোনো সমস্যা নেই তবু মাঝে মাঝে ঢং করে চশমা পরি। চশমাটা খুলে দুচোখ রগড়ে নিলাম। নাহ্। এটা তো পার্লারের কালার মনে হচ্ছে না। রিয়েল সবুজই দেখা যাচ্ছে। পুরো মাথাতেই সবুজ। ভেতরে ঢুকে একটু ভাব ধরে বসে রইলাম। জিজ্ঞেস করতে গেলে যদি আমাকে ক্ষেত মনে করে! মেয়েটি হারমোনিয়াম নিয়ে বসেছে। চুলের গোছাটা আলগোছে সামনে এনে আমার দিকে তাকাল। এই রে মনে হয় বুঝে গেছে আমি আগ্রহ দেখাচ্ছি। জানালা দিয়ে আকাশ দেখার ভান করলাম। ঘরের অন্য মেহমানরাও কিছুটা তাজ্জব, ব্যাপারটা কী! এই মেয়ের চুল সবুজ কেন। পুরো দু ঘণ্টা চলল গোপনে দেখার পরীক্ষা। অন্য একজন মহিলা প্রশ্নটা করেই বসলেন চুল সবুজের ব্যাপারে। মেয়েটি নির্বিকারভাবে বলল, এটা স্বপ্নে পাওয়া ওষুধের মাধ্যমে হয়েছে। ভিড় বেড়ে গেল। সবাই জানতে চাচ্ছে, কী এমন জিনিসে চুলের রং বদলে গেল?
‘আমার দাদি স্বপ্নে দেখেছিলেন, অ্যালোভেরা গাছের পাতার সঙ্গে সবুজ কাঁটা মুকুট গাছের ফুল ও পাতা একসঙ্গে বেটে তিন ঘণ্টা কলাপাতাতে রাখতে হবে। তারপর সেটি অলিভ অয়েলের সঙ্গে মাথায় মাখিয়ে রাখতে হবে চারদিন। পঞ্চম দিন পদ্মফুলযুক্ত দিঘিতে গোসল করে রোদে ২০ মিনিট বসার পর চুলের রং বদলাতে শুরু করবে। এভাবে প্রতি সপ্তাহে দিতে দিতে পুরো সবুজ হবে চুলের রং। আমার ফুপি চেষ্টা করেছিল কিন্তু দাদি তো কাঁটা মুকুটের পাতার নাম জানত না তাই আন্দাজ দিয়েছিল।
আমি বাগান করা শুরু করি এবং একের পর এক গাছ কিনে দাদিকে পাতা দেখাই, একদিন কাঁটা মুকুটের পাতা দেখে দাদি বললেন এটাই সেই পাতা। তারপর সফল হয়েছি। এখন আমার চুল সবুজ এবং যেখানে যাই সবাই অবাক হয়।’
একটু দূরে দাঁড়িয়ে শুনছি। যতই ভান করি না কেন ভেতরে ভেতরে আমি খুবই আগ্রহী। একদিন আমিও হবো সবুজ চুলের অধিকারী!
দাগনভূঁঁইয়া, ফেনী।
