আপনি কেমন সমর্থক

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ২২:৫০

 

রাজীব নন্দী

 

ফুটবল মানেই মাঠে কি হাটে টানটান উত্তেজনা। আর সমর্থকদের মধ্যেও দেখা যায় নানা ভাগ। সে রকম টানটান উত্তেজনায় শেষ হলো কোপা আমেরিকা। আপনি মিলিয়ে নিন আপনি কেমন সমর্থক...

 

কট্টোর সমর্থক

‘খাই তো সুজি, ভালোবাসা বলতে দল তোমাকেই বুঝি।’ এই গোত্রের সমর্থকদের প্রিয় স্লোগান এটি। পৃথিবী উল্টে যেতে পারে, প্রেমিক বা প্রেমিকার কথাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর মতো দুঃসাহস করতে পারে, কিন্তু এরা কিছুতেই তাদের সমর্থন পরিবর্তন করবে না। সমর্থকেরা মাঠে নামতে না পারলেও কথায় বা বার্তায় এরা দলকে জিতিয়ে দেবেই। এরা প্রেমিক বা প্রেমিকার চেয়ে দলকে বেশি ভালোবাসে।

 

নিরীহ সমর্থক

‘ভাই, আপনি কোন দল সমর্থন করেন?’ এদের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘ভাই আমি কোন্দল সমর্থন করি না।’ খেলা কিংবা পাড়ার ঘাটের মেলা—কোনোটা নিয়েই এদের মাথাব্যথা নেই। এরা খুবই নিরীহ গোছের মানুষ। পুরো পৃথিবী একদিকে, আর এরা অন্যদিকে। এদের জন্যই হয়তো শিল্পী গেয়েছেন, ‘আমি কারো খাই না পরি, না কারো ধর্না ধরি...।’

রেফারি সমর্থক

এরা সংখ্যায় খুবই কম। বড় দুই সমর্থক গোষ্ঠী যখন মুখে মুখে প্রতিযোগিতা করে, এরা হঠাত্ করে বাঁশি বাজিয়ে বলে ওঠে, ‘আরে, এসব ফাও প্যাঁচাল বাদ দিয়ে দেখতে থাক, বেলাশেষে হেসে হেসে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো।’

 

চ্যাম্পিয়ন সমর্থক

‘কী ভাই, কোন দল?’ ‘যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে, আমি সে দল।’ এরা বাংলাদেশ সুবিধাবাদী দলের সদস্য। শেয়ার বাজার কিংবা বিয়ের বাজার কোথাও এরা লাভ ছাড়া আর কিছু বোঝে না। বাকি সময় মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও ফাইনাল খেলার দিন এদের অতিরিক্ত আস্ফাালন করতে দেখা যায়।

 

আঁতেল সমর্থক

এরা মনে হয় চার বছর না খেয়ে খেয়ে নিজের শেষ সম্বলটুকু টিকিয়ে রাখে  প্রিয় দলের একটা লম্বা পতাকা বানিয়ে সবার চোখে হিরো হওয়ার জন্য। ভাবখানা এমন যে, জীবনে ব্যর্থ হতে হতে একটা পাঁচ কিলোমিটার লম্বা পতাকা বানিয়ে আমি সফল হলাম। এদের সংখ্যা পাড়ার সিঙ্গেল মেয়ের সংখ্যার চেয়ে কিছু বেশি হতে পারে।

টিউবলাইট সমর্থক

এরা খেলা দেখতে বসে প্রথমে জিজ্ঞেস করবে, ‘ভাই, ডান পাশেরটা কোন দল আর বাম পাশেরটা কোন দল? এই যে বল পায়ে দৌড়াচ্ছে, তার নাম কী যেন? গোল হওয়ার পরও রেফারি কেন গোলটা বাতিল করে দিল?’ উফ! এদের নিয়ে খেলা দেখতে বসলে আপনি নিজে একসময় কোচ হিসেবে যেকোনো ক্লাবে ডাক পেতে পারেন।

 

ঘাড়ত্যাড়া সমর্থক

আপনি গুগল, ভূগোল, উইকিপিডিয়া কিংবা টোটাল মিডিয়া, যে জায়গা থেকেই তথ্য দেখান না কেন, এরা বিশ্বাস করবে না। এরা যা বলবে সেটাই চিরন্তন সত্য এবং প্রেজেন্ট ইনডিফিনিট টেন্স বলে বিশ্বাস করে। এদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিতর্ক করার পরও এরা নিজের তালগাছখানা ঠিকই বগলদাবা করে বাড়ি ফিরবে; গাছ তো দেবেই না, একটা তালপাতা দিয়েও এই গরমে কাউকে পাখা বানাতে দেবে না।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।