গত রবিবার (২ ডিসেম্বর) সরকার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আয়কর বিবরণী বা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিয়েছেন ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৬১০ ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতা। অথচ দেশে বর্তমানে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (ই-টিআইএন) ৩৮ লাখ ১৫ হাজারের কিছু বেশি। সে হিসেবে এবার ২১ লাখের বেশি ই-টিআইএনধারী নির্ধারিত সময়ের আয়কর রিটার্ন জমা দেন নি। আরও ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৩৫ জন পরবর্তীতে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট আয়কর অফিসের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। এই ব্যক্তিদেরও সম্ভাব্য রিটার্ন দাখিলকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে এবার সম্ভাব্য করদাতা হবে ২০ লাখের কিছু বেশি। তা সত্ত্বেও এবার রিটার্ন দাখিলের বাইরে থাকছেন অন্তত ১৮ লাখ ই-টিআইএনধারী। অবশ্য এবার রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ শতাংশের কিছু বেশি। এনবিআরের প্রাথমিক হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।
গত কর বছরে রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৪। আর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন ছিল আরও ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৬ জনের। সবমিলিয়ে গত কর বছরে ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ জন টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
অবশ্য এনবিআর মনে করছে এবার সময়ের আবেদন করেনি এমন আরও দুই লাখের মতো টিআইএনধারী আয়কর রিটার্ন দাখিল করবে। সেই হিসাবে এই সংখ্যা ২২ লাখ হতে পারে। এনবিআর সদস্য জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, সময়ের আবেদন করেনি, এমন আরও ২ লাখের মতো রিটার্ন জমা হতে পারে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ২২ লাখ হতে পারে। তবে এবার রিটার্ন যে হারে বেড়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে অনেকে টিআইএন নেন। তবে টিআইএনধারীদের মধ্যে যারা রিটার্ন জমা দেন নি, তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করব। আগামী মার্চের মধ্যে এই অনুসন্ধান শেষ করতে পারব। আশা করছি রিটার্ন জমা না দেওয়াদের মধ্য থেকে আরও সাত থেকে আট লাখ ব্যক্তিকে করের আওতায় আনতে পারব।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে ব্যক্তি করদাতাদের কাছ থেকে আয়কর আহরণ হয়েছে ৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক বছরে রিটার্ন দাখিল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়কর আদায় বেড়েছে ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকা বা প্রায় ২৭ শতাংশ। সূত্র জানায়, গত বছর দেশে ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা ছিল ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৩০১ জন। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখের উপরে। অর্থাত্ এক বছরে ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের উপরে বেতনভোগী চাকরিজীবীদের ই-টিআইএন ও রিটার্নের বাধ্যবাধকতার আওতায় আনায় মূলত ই-টিআইএনধারী বেশি হারে বেড়েছে। বর্তমানে বছরে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। এর উপরে আয় হলে ব্যক্তিকে ই-টিআইএন গ্রহণ এবং রিটার্ন জমা দিতে হবে।
রিটার্ন জমা না দিলে কী ব্যবস্থা :
ই-টিআইএন থাকা সত্ত্বেও আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা গুণতে হবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ না দেখাতে পারলে পূর্ববর্তী কর বছরে নির্ধারণ হওয়া আয়করের ১০ শতাংশ জরিমানা গুণতে হবে। তবে এটি এক হাজার টাকার কম হতে পারবে না। এর সঙ্গে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হিসাব করতে হবে। এ দুটির যোগফল ও ১০ শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি, তা হবে ব্যক্তির জরিমানা। অন্যদিকে নতুন করদাতার ক্ষেত্রে এই জরিমানা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করা হলেও ৩০ নভেম্বরের পর রিটার্ন দিতে হলে সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর বছরের প্রদেয় করের ওপর প্রতি মাসে দুই শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।
