আগামী ৩০ ডিসেম্বর শুরু হবে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ধুন্ধুমার আসর বিপিএল টি-টোয়েন্টি। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় শেষ হবে। তবে চার ছক্কার ক্রিকেটের সঙ্গে এবার যোগ হবে বাড়তি আকর্ষণ। দেশজুড়ে চলবে তারুণ্যের উৎসব। একদিকে ২২ গজের পিচে ব্যাটবলের লড়াই চলবে। অন্যদিকে চলবে দেশের অন্যান্য জনপ্রিয় খেলা।
হোক সেটা জাতীয় কাবাডি, ভলিবল, ফুটবল কিংবা নারী ফুটবল, প্রত্যন্ত অঞ্চলে খেলার বাজার বসিয়ে দিতে চায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সভা-সমাবেশ, কর্মশালা, মিউজিক ফেষ্ট, পরিবেশ সচেতনতা, সেমিনার আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষন, আর্ট গ্যালারিতে ফটো প্রদর্শনী, কারু শিল্প মেলা, বই মেলাসহ ১১টি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এতো আয়োজন জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করেই। বিপিএল এবং তারুন্যের উৎসব আয়োজনের এসব কথা জানাতে গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অফিসিয়াল মাসকট উদ্বোধন করা হয়। মাসকটটি ক্রিকেটের জন্য হলেও এর পুরোটাই জুলাই বিপ্লবের যেসব হত্যাকান্ড হয়েছে তার প্রতিক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। শান্তির কথা বলা হয়েছে। দেশ গড়ার কথা বলা হয়েছে। ক্রিকেটের জার্সি গায়ে মাসকটের বুকে লেখা রয়েছে ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’। অন্যদিকে বাঘের দুই পাশে মুষ্টিবদ্ধ হাত থেকে বেরিয়ে আসছে আগুনের ফুলকি। এভাবেই সাজানো হয়েছে।
মাসকটের দুই পাশে ডানায় ৩৬টা পালক ছড়িয়ে পড়েছে। ১ জুলাই হতে ৫ আগষ্ট, আন্দোলনের ৩৬ দিন। ৩৬ শে জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিস্মরণীয় স্মৃতিকে নাম দেওয়া হয়েছে ডানা ৩৬। ডানা হচ্ছে পাখা, বুঝানো হয়েছে স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। স্বাধীনতা, শান্তি, মুক্তি, তারুণ্য, উৎসব এবং সীমাহীন সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হয়েছে। ডানা ৩৬ মাসকটের মেলে ধরা ডানা শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা, ১৮টি করে দুই পাশে ৩৬টি রঙিন পালক উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বপ্নবাজ, উদ্যমী, অপ্রতিরোধ্য তরুণকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। ডানা’র স্বপ্নময় চোখ ও উজ্জ্বল হাসিতে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের আনন্দ এবং ক্রিকেট মাঠের অফুরন্ত সম্ভাবনা।
মাসকট উন্মোচন অনুষ্ঠানে বড় পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে গত জুলাইয়ে গণহত্যার অংশ। আন্দোলন করতে গিয়ে পুত্র সন্তান হারানো বাবার চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। নিহতের বাবার কান্না। পা হারানো টগবগে তরুনের আর্তনাদ। ‘আমি এখনও মনে করি পায়ের পাতায় ভর দিচ্ছি। হাত দিয়ে দেখি আমার তো পা নেই।’ সন্তান হারানো মায়ের কান্না-আমার পোলার বুকে গুলি করছে। যারা গুলি করছে, আল্লাহ তুমি তার বিচার কইরো।’ আরেক মা তার সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে বলছেন-আমার ছেলে কতো দিন আমারে মা কয় না। কাছেও আসে না। আমি সন্তানের বিচার চাই।’ ছোট্ট শিশুটি এখনও বাবার অপেক্ষায়। বাবা হারানো শিশুর অশ্রুস্বজল কন্ঠ-আই মিস য়্যু বাবা।’
নিহতদের পরিবারের বুক ফাটা কান্নার এসব মর্মস্পর্শী ভিডিওগুলো মুহূর্তেই অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের হৃদয় নাড়িয়ে দিল। সাফ গেমস স্বর্ণ জয়ি সাবরিনা সুলতানা, আসিফ হোসেন খান, ফুটবলের তপু বর্মন, ক্রিকেটের মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, কাবাডির তারকা জিয়াউর রহমান জিয়া, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিভিন্ন ফেডারেশনের কর্মকর্তা। ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাদেহী, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) লামিয়া মোরশেদ, বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, বিসিবির সভাপতি ফারুক আহমেদ, বিসিবি পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
