গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
রোববার (৮ ডিসেম্বর) ভোরে দেইর আল-বালাহ’র এক শরণার্থী ক্যাম্পে হামলায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্য, যাদের মধ্যে শিশুরাও ছিল, ঘুমন্ত অবস্থায় নিহত হয়।
মাহমুদ ফায়াদ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “মধ্যরাতে একটি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভাঙে। আমরা চিৎকার শুনে ছুটে যাই এবং দেখি অনেক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। পুরো একটি পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।”
অল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদের মতে, এই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশে থাকা মানুষজন।
রোববার আরও একটি হামলায় আল-বুরেইজ শরণার্থী ক্যাম্পে অন্তত ১১ জন নিহত হন। হামলাটি ক্যাম্পের পূর্ব অংশে ঘটে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দাদের কোনও আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি।
অল জাজিরার তারেক আবু আজ্জুম বলেন, “আমি নিজ চোখে মৃতদেহের ছিন্নভিন্ন অংশ দেখেছি। সেগুলোকে আটা রাখার বস্তায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কারণ কফিনের অভাব ছিল।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৭০৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫০ জন আহত হয়েছেন।
উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতাল ইসরায়েলের অবরোধে রয়েছে। রোববার হাসপাতাল পরিচালকের বরাতে জানা যায়, হাসপাতালে প্রায় ১০০টি ট্যাংকের গোলা এবং বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে হাসপাতালের বিদ্যুৎ ও অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে।
ডা. হুসাম আবু সাফিয়া বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আইসিইউ রোগী এবং অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বিদ্যুৎ ও অক্সিজেনের পুনঃসরবরাহ জরুরি।”
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস যোদ্ধারা হাসপাতালসহ বেসামরিক ভবনগুলোকে তাদের কার্যক্রমের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলকে বেপরোয়া বোমা হামলা এবং হামলার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
