বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০১

আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হলো বাংলা একাডেমির ৬৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সাবেক মহাপরিচালক, প্রাক্তন কর্মকর্তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল দিনটি। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিলো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বক্তৃতা, স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘বৈশ্বিক পটভূমিকায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও জাতিরাষ্ট্র’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তৃতা করেন প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সুব্রত বড়ুয়া।

মফিদুল হক বলেন, বিশ শতকের মুক্তি-আন্দোলনের নিরিখে বৃহত্তর পরিসরে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালির জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই বিবেচনা করার রয়েছে অশেষ গুরুত্ব। বাঙালির জাতীয়তাবাদ অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমন্বয়বাদী সমপ্রীতির যে আদর্শ বহন করে তা ধর্মবিভাজন অতিক্রম করে জাতিসত্তায় মিলনের পথ প্রশস্ত করে। জাতীয়তাবাদের উপনিবেশিকতা-বিরোধী চরিত্র ধারণ করে এই সমপ্রীতির আদর্শে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বাঙালির জাতিরাষ্ট্র, আজকের ধর্মভিত্তিক সংঘাতময় বিশ্বে তার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের অভ্যুদয় তাই দাবি করে গভীরতর বিবেচনা ও বিশ্লেষণ। ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী সামনে রেখে বহুতর গবেষণা সম্পন্ন হবে, নতুন আলোকে আমরা চিনে নিতে পারবো আপন সত্তা ও এর তাত্পর্য, সেই আশাবাদ এখানে ব্যক্ত করা যায়।

স্মৃতিচারণে অংশ নেন একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক মনজুরে মওলা, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক মনসুর মুসা, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, প্রাক্তন সচিব মোঃ আলতাফ হোসেন এবং প্রাক্তন পরিচালক রশীদ হায়দার, আসাদ চৌধুরী, মুহাম্মদ নূরুল হুদা, ফরহাদ খান, আবদুল হান্নান ঠাকুর, জাকিউল হক, নুরুল ইসলাম বাঙালি প্রমুখ।

‘সুরভিত সন্ধ্যায়’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত এবং নৃত্য। পরিবেশনায় ছিলেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

এর আগে সকালে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শুরু হয় ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে, বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র সমাধিতে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে।