ঢাকার দুই মেয়রকে হাইকোর্ট
ইত্তেফাক রিপোর্ট
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঢাকা শহরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ একই ধরনের অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতেও বিবাদীদেরকে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এডিস মশা নির্মূল এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এফিডেভিট আকারে তা হাইকোর্টে দাখিল করতে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং দুই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে বলা হয়েছে। আদালতের এ আদেশের বিষয়টি দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রকে জানিয়ে দিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জায়েদী হাসান খান উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ইতিমধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐসব প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছে, এডিস মশা নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শত শত লোক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ইতিমধ্যে ১১ জন মারাও গেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে লোকজন ভর্তি হচ্ছেন। যদি এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে এটা মহামারী আকার ধারণ করবে। এরপরই হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। রুলে এডিস মশা নির্মূলে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা এবং যাদের কারণে এ মশা নির্মূল করা যায়নি এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার ঘটেছে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত। এছাড়া এডিস মশা নির্মূলে কেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর স্ত্রী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়। নোটিশ পেয়ে শনিবার ঐ আইনজীবীর খিলগাঁওয়ের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন মেয়র সাঈদ খোকন।
