রোহিঙ্গা নারীর ভোটার হওয়ার চেষ্টা, আটক ৩

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ২১:২০

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নকল পিতা সাজিয়ে এক রোহিঙ্গা নারী ভোটার হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ও তার সহযোগী দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে তাদের আটক করা হয়।  

আটককৃতরা হলেন সুমি আক্তার (১৭), তার পিতা মো. তৈয়ব এবং নকল পিতা মো. ইসমাঈল।  

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুমি আক্তার নামে এক রোহিঙ্গা নারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ভোটার হওয়ার জন্য অফিসে আসেন। এ সময় তাকে জুঁইদণ্ডি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইসমাঈলকে পিতা সাজিয়ে আনা হয়। তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে অফিসের কর্মীরা তাদের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যান।  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় বিশ বছর আগে সুমির পিতা মো. তৈয়ব তার স্ত্রীসহ জুঁইদণ্ডি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। মেয়েটির জন্মের পর তার মা মারা গেলে সুমি ও তার পিতা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন।  

নির্বাচন অফিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মেয়েটির প্রকৃত নাম সুমি হলেও তাকে সুমাইয়া আক্তার মুন্নী নামে একটি ভুয়া জন্ম সনদ প্রদান করা হয়। সেই জন্ম সনদে মো. ইসমাঈলকে পিতা এবং তার স্ত্রী মোহসেনা খাতুনকে মাতা হিসেবে দেখানো হয়। সুমির ভাই হিসেবে ইসমাঈলের দুই ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও মো. ইউনুসের এনআইডি নম্বর দেওয়া হয়। এসব কাগজপত্র প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে সত্যায়িত করেন জুঁইদণ্ডি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম।  

সুমি আক্তার জানান, 'আমি কেইপিজেডে চাকরি করি। চাকরির জন্য এনআইডি প্রয়োজন হওয়ায় এই পন্থা অবলম্বন করেছি।' 

নকল পিতা মো. ইসমাঈল বলেন, 'মেয়েটি কান্নাকাটি করায় মানবিক কারণে আমি পিতা সেজেছি।'  

প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম বলেন, 'মেয়েটিকে আমি চিনি না। ইসমাঈলের মেয়ে ভেবে ভুলবশত স্বাক্ষর করেছি।'  

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু জাফর সালেহ জানান, 'তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি বেরিয়ে আসে। পরে তাদের আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।' 

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, 'বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'  

ইত্তেফাক/টিএইচ