ধোনির পাশে স্টিভ ওয়াহ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২১:০৩

স্পোর্টস রিপোর্টার

ভারতের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়াকে ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে দেশটির ক্রিকেট সমর্থকরা। আর এই বাদ পড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। একসময় ‘ফিনিশার’ নামে খ্যাতি পাওয়া ধোনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ বের করে আনতে পারেননি বলে তার সমালোচনা চলছে।

অনেকে মনে করছেন, ধোনির ক্যারিয়ার এখানেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত। সাবেক অধিনায়কের এখান থেকেই বিদায় বলে দেওয়া উচিত। কিন্তু এই সময়ে ধোনি তার পাশে কিছু বিশেষজ্ঞকে পাচ্ছেন। যেমন তার হয়ে খুব শক্ত করে কথা বললেন বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ওয়াহ বলছিলেন, ধোনি এখনো ওয়ানডে ক্রিকেটের কার্যকর একজন ক্রিকেটার, ‘দেখুন, এই লোকটা ওয়ানডে ক্রিকেটের একজন জিনিয়াস। এই সেদিনও দেখুন। যতক্ষণ সে রান আউট না হয়েছে, ততক্ষণ সে খেলাটা করে আনার পথে ছিলো। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, সে যদি অসাধারণ খেলোয়াড় না হতো, তাহলে আপনারা তাকে এসব প্রশ্নই তুলতেন না।’

ওয়াহদের বড়ো ভাই বলছিলেন, ভারতকে সেদিন জেতানোর যে সম্ভাবনাটা ধোনি তৈরি করেছিলেন, সেটাই তার পরিচয়, ‘সে যতক্ষণ উইকেটে ছিলো, আপনাদের (ভারতকে) সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সে যতবার ভারতকে ম্যাচ জিতিয়েছে, সেই সংখ্যাটা বিস্ময়কর। সে যা করে, যেভাবে খেলে, আমি এখনো তার ওপর বিশ্বাস রাখার পক্ষে।’

শুধু ধোনি নয়, স্টিভ ওয়াহর অগাধ আস্থা কোহলির অধিনায়কত্বেও। ওয়াহ মনে করেন না যে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোহলির অধিনায়কত্বে একটু ভুল ছিলো। তিনি বলছিলেন, ‘বিরাট কী কোনো ট্যাকটিক্যাল ভুল করেছে? না। নিউজিল্যান্ড অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। আপনি যদি নিশমের অসাধারণ ক্যাচ এবং গাপটিলের রান আউটটা দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন বিশ্বকাপের খেলাগুলো কখনো কখনো ফিল্ডিংয়ের কারণেও বের হয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে উইলিয়ামসন ও টেলরকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। ধীরে ব্যাটিং করার জন্য তাদের অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু ওরা কন্ডিশনটা খুব ভালো বুঝতে পেরেছিলো। একটা বিশ্বকাপ জেতার জন্য আপনাকে আসলেই অনেক স্মার্ট হতে হবে। তারা সেটা করতে পেরেছে। ফলে আমার মনে হয় না কোহলির দিক থেকে ভুল কিছু ছিল। এটা নিউজিল্যান্ডের কৃতিত্ব ছিলো।’

শুধু সেমিফাইনাল থেকে ভারত ছিটকে গেছে, তাই নয়। ছিটকে গেছে আরেক সেমিফাইনাল থেকে স্টিভ ওয়াহর দল অস্ট্রেলিয়াও। তবে নিজের দলের এই পরাজয়ে বিস্মিত নন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। তিনি এটাকে ক্রিকেটের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য বলে মেনে নিতে বলেছেন, ‘এটাকেই ক্রিকেট বলে, বন্ধু। কেউ না কেউ তো জিতবেই। আর কেউ না কেউ তো হারবেই। দেখুন, কাউকে না কাউকে বলতে হবে যে ‘প্রতিপক্ষ খুব ভালো ছিল’। প্রথম সেমিফাইনালটার (ভারত-নিউজিল্যান্ড) ফলাফল আমার কাছে বিস্ময়কর ছিল। দ্বিতীয় সেমিফাইনালের (অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড) ফলের মার্জিনটা বিস্ময়কর ছিল। কিন্তু এটাই ক্রিকেট। আপনি আগে থেকে বলতে পারবেন না যে, কী ঘটতে চলেছে।’