ভালো উইকেটে সব সময়ই ব্যর্থ বাংলাদেশ, সেটা যেন আরেকবার প্রমাণ করল ওয়ার্নার পার্কে। ব্যাটিং স্বর্গে যেখানে স্বাগতিক ব্যাটাররা স্বাবলীল ব্যাটিং করছে, সেখানেই ব্যাট হাতে উইকেটে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে দেখা গিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। আর তাতে কোনো রকম লড়াই না করেই তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে পরাজিত হয়ে হারিয়েছে সিরিজ।
আজ বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ। মিরাজদের জন্য এদিন কঠিন পরীক্ষা। কেননা ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়ে এড়াতে হবে ধবলধোলাই। বাংলাদেশ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
এর আগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজে সমতা আনার লড়াইয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। শুরুটা হয় ব্যাটারদের ব্যর্থতা দিয়ে। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আগে ব্যাট করে গুটিয়ে যায় কেবল ২২৭ রানেই। মামুলি লক্ষ্য পেয়ে হেসে খেলেই ৭ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ জিতে নেয় ক্যারিবীয়ানরা। তাতে ১০ বছর পর ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয় পেল স্বাগতিকরা। ২০১৪ সালে সর্বশেষ সিরিজ জিতেছিল, তারা সেবারও টাইগারদের করেছিল ধবলধোলাই।
সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ হারের পর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটারদের কাঁধে দোষ চাপিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। বলেছেন, 'মাঝের ওভারগুলোয় আমরা অবশ্যই ভালো ব্যাট করতে পারিনি। তেমন কোনো জুটি পাইনি আমরা, পিঠাপিঠি উইকেট পড়েছে বারবার। মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব (তানজিম) সত্যিই ভালো করেছে। তবে ভুল আমাদেরই ছিল (ব্যাটিংয়ে)। ওরা সত্যিই খুব ভালো বল করেছে। বিশেষ করে সিলসকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। সে খুব ভালো করেছে এবং আমরা রান করতে পারিনি। সম্ভবত ২০ রানে ৪ উইকেট পড়েছে, এটাই ছিল সমস্যা। তারপরও আমাদের ভাবনা ছিল যে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। তবে শেষ পর্যন্ত এই ধরনের উইকেটে এই ২২৮ রান যথেষ্ট নয়। তিনশর বেশি রান হলে ভালো হতো এরকম উইকেটে।'
তবে প্রথম ম্যাচ হারের পর অধিনায়ক বোলারদের দিকে আঙুল তুললেও এদিন প্রশংসা করে বলেন, 'আমার মনে হয়, প্রথম ১০ ওভারে আমরা ভালো বল করেছি। বিশেষ করে, রানা ভালো করেছে। কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে আমাদের। কিন্তু ২২৮ রান নিয়ে এই ধরনের উইকেটে বোলারদের কাজ কঠিন।'
এদিকে সিরিজ হারের পর থেকেই শেষ ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করেছিল বাংলাদেশ দল। গত পরশু খেলা শেষ হওয়ার পরই মাঠে ঘাম ঝরাতে দেখা যায় সফরকারীদের। সে সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের পেস বোলার তানজিম হাসান সাকিব দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতার প্রসঙ্গে বলেন, 'প্রথম ম্যাচে আমরা অসাধারণ ব্যাটিং করেছি, খুবই ভালো করেছিল ব্যাটাররা। তবে এ ম্যাচে আমরা পিছিয়ে গিয়েছি ব্যাক টু ব্যাক উইকেট যাওয়ায় ওইখানেই আমরা পিছিয়ে গিয়েছি। আমরা যদি সেখানে পরপর উইকেট না দিয়ে জুটি গড়ত অথবা সাবলীলভাবে ব্যাটিং করত তাহলে ভালো একটা রান হতো।'
সিরিজ হারার ম্যাচে টপ অর্ডার আর মিডল অর্ডার ব্যাটারদের দ্রুত সাজঘরে ফেরায় বিপদের পড়ে দল, সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১১৫ রান। সে সময় দলকে টেনে তুললেন তানজিম ও মাহমুদল্লাহ। ওয়ানডে ক্রিকেটে অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি উপহার দেন তারা যোগ করেন ৯২ রান। ভেঙে যায় প্রায় ৬ বছরের পুরোনো এক জুটির রেকর্ড। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেপিয়ারে ৮৪ রানের জুটি গড়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটি নিয়ে সাকিব বলেন, 'আমি সব সময় চেষ্টা করি দলের যখন দরকার হবে তখন যেন ভালো ব্যাটিং করতে পারি। সেটা অনুশীলনে হতে পারে কিংবা ম্যাচে। তো এই ম্যাচে একটা সুযোগ পেয়েছিলাম, চেষ্টা করেছি রিয়াদ ভাইকে সহায়তা করার জন্য আর নিজের সামর্থ্যের জায়গায় বল পেলেই মারার চেষ্টা করেছি।'
যদিও সাকিব মনে করেন, শেষ ম্যাচে তারা ঘুড়ে দাঁড়াবেন। কারণ ধবলধোলাই এড়াতে জয়ের বিকল্প নেই তাদের সামনে। তৃতীয় ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, 'অবশ্যই সম্ভব (ঘুরে দাঁড়ানো)। আমাদের এটা বিশ্বাস করতে হবে। শেষ ম্যাচটায় আমরা জয় তুলে নিয়েই তাদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রবেশ করতে চাই। আর তৃতীয় ম্যাচটিতে অবশ্যই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই সামনে। তাই শেষ ম্যাচটায় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই চেষ্টা করব জেতার জন্য।'
