বর্ণিল উত্সবে মাতোয়ারা লর্ডস

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২১:০৪

টিকিটের জন্য হাহাকার

 শামীম হামিদ, লর্ডস (ইংল্যান্ড) থেকে

লর্ডসে শেষবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০ বছর আগে। ১৯৯৯ সালের ২০ জুন পাকিস্তানকে আট উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ দুই দশক পর ফের লর্ডসে হয়ে গেল আরেকটি স্মরণীয় ফাইনাল, যাকে ঘিরে বর্ণিল উত্সবে মাতোয়ারা হয়েছে বনেদী এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

দুই দশক পর লর্ডসে ফের ফাইনালের স্বাদ পেতে গতকাল মাঠে ছুটে এসেছিলেন হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রিকেটপ্রেমীদের গন্তব্য ছিল একটাই, আর তা হলো লডর্স। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে থেকে শুরু করে নানা পেশা ও বয়সের নারী-পুরুষের সমাগম ঘটেছিল লর্ডসে। তবে একই সঙ্গে ম্যাচ নিয়ে ছিল টিকিটের প্রবল হাহাকার।

উত্সবের আমেজটা ছড়িয়ে পড়েছিল আশপাশে বহুদূর পর্যন্ত। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এজওয়্যার রোড স্টেশনে সকালে ট্রেন থেকে নামার পরই সেটা টের পাওয়া গেল। কানে ভেসে এলো টিকিটের জন্য হাঁকডাক। তবে ক্রেতা-বিক্রেতার অনুপাতে ভারসাম্য ছিল না মোটেই। কেউ একজন টিকিট শব্দটি উচ্চারণ করা মাত্রই ১০ থেকে ১৫ জন তাকে ঘিরে ধরছিল। ক্রেতার সমাগম দেখে টিকিটের দামও হাঁকা হচ্ছিল আকাশ ছোঁয়া। 

সেন্ট জনস উড টিউব স্টেশনের বাইরে একজনকে একটি টিকিটের জন্য দুই হাজার পাউন্ড দাম হাঁকতে দেখা গেল। চড়া দামের কারণে অনেক আশা নিয়ে এসেও মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি অনেকে। টিকিট না পেয়ে অনেকেই একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

ঢাকার গুলশান থেকে আসা এজাজুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর দেখা পাওয়া গেল স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে। বাংলাদেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। জানালেন, খেলা দেখার জন্য বাংলাদেশ থেকে এলেও ফাইনালের টিকিট জোগাড় করতে পারেননি তিনি। কালোবাজারে টিকিট পাওয়া গেলেও দাম অত্যন্ত চড়া। ৫০০ থেকে ১০০০ পাউন্ড পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। তিনি অপেক্ষায় রয়েছেন ম্যাচের কয়েক ওভার শেষ হলে টিকিটের দাম হয়তোবা কমবে।

এজাজের মতো অনেক বাংলাদেশি খেলা দেখার জন্য গতকাল লর্ডসে এসেছিলেন। তবে টিকিট নামের সোনার হরিণের দেখা পেয়েছেন খুব কমই। কয়েকজনকে দেখা গেল, ‘আই ওয়ান্ট টিকিট’ (আমি টিকিট চাই) লেখা কাগজ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। এই বিশ্বকাপে অনেক আলোচিত ঘটনার মধ্যে একটি ছিল টিকিট সংকট। প্রতিটা ম্যাচেই টিকিটের ব্যাপক চাহিদা ছিল। টিকিটের জন্য এবার অনলাইনে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল বলে আইসিসি জানিয়েছে। তবে অনলাইনের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে টিকিট সংগ্রহ করেছেন অনেকে।

ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো জনপ্রিয় দলগুলোর খেলায় কালোবাজারিদের তত্পরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে কোনো অবৈধ উত্স থেকে টিকিট না কিনতে আইসিসির পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টিকিট কিনতে গিয়ে অনেকের ভাগ্যে জাল টিকিট জুটেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।    

তবে টিকিটের এই হাহাকার জয় করেও লর্ডসে বসেছিল উত্সবের পসরা। হাজার হলেও স্বাগতিক দলকে ফাইনালে লড়তে দেখার উত্সব। ফলে ভিড় না জমে কী পারে!