লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অন্তত ৫০টি ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবনের বেশ কয়েকটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও ঝুঁকি এড়াতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পরিত্যক্ত ঘোষিত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যেই অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ একাধিক ভবনে বছরের পর বছর ব্যবসা ও সরকারি অফিস এবং শিক্ষা কার্যক্রমও চলছে। প্রায় সময় পলেস্তারা ভেঙে মাথায় পড়ে আহতের ঘটনাও ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন যেকোনো সময় ধসে ঘটতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
১৫ বছর আগে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিলেও পরে অজ্ঞাত কারণে সংস্কার কাজ থেমে যায়। উপজেলা পরিষদের ভেতরে ইউএনও কার্যালয় ভবনের পেছনের গলিতে খাদ্য, পিআইও, মহিলা বিষয়ক, সমবায়, পরিসংখ্যান, যুব উন্নয়ন, মৎস্য, আইসিটি, হিসাবরক্ষণ, এলজিইডির কার্যালয় এবং তার পাশের পল্লী উন্নয়ন ও তার পাশের উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ভবন, নিচতলার অফিসার্স ক্লাব পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ইউএনও কার্যালয়ের পেছনে অফিসার ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, পশ্চিম পাশে ছয়টি আবাসিক কোয়ার্টার ভবন, আদর্শ শিশু নিকেতন স্কুল ভবন, পুরোনো আদালত ভবনের বন কর্মকর্তা, পল্লী সঞ্চয় ও আনসার ভিডিপি ব্যাংকসহ পৃথক ভবন ১৪টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মত দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।
সরেজমিন দেখা গেছে, রায়পুর শহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন পুরোনো কোর্ট ভবন, পরিষদের ভেতরে ট্রেজারি শাখা ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানে নিয়মিত অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মধ্য ও পূর্ব এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের কার্যালয়সহ ১২টি আবাসিক কোয়ার্টার ভবন জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, থানার উত্তর পাশে ১২ তলা বিশিষ্ট গাজী কমপ্লেক্সটি যেকোনো সময় দেবে যাবে। এছাড়াও ভবনটি অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ। এ মার্কেটে ৪০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ৫০টি পরিবার রয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গাজী কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, ৩০ বছর আগে অনিয়মের মধ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবন হেলে পড়া ও অগ্নিসংযোগসহ যেকোনো সময় বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩০ বছর আগে রায়পুর পীর বাড়ি সংলগ্ন পাউবোর অফিসসহ রেস্ট হাউস, পোস্ট অফিস সংলগ্ন পাউবোর সাতটি ও টিসি সড়কের পাঁচটি আবাসিক ভবন, হাজিমারা ও হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও মৎস্য অফিসের রেস্ট হাউস খাতা-কলমে পরিত্যক্ত দেখানো হলেও সেখানে রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। সেখানের একটি বিল্ডিং ও অফিস হিসেবে চলার উপযোগী মনে করেন না অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ওই অফিসের আওতাধীন স্টাফ কোয়ার্টারগুলোও মান্ধাতার আমলের। সেগুলোও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সেখানকার অনেক ভবন পরিত্যক্ত করা হলেও কাজকর্ম চলছে। কোনোটি খালি পড়ে আছে। শহরের বাস টার্মিনাল ভবনটি ৩০ বছর আগেই দোতলা এই ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এখন যথেষ্ট ঝুঁকির মুখে রয়েছে ভবনটি। এছাড়া ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালের চারটি আবাসিক কোয়ার্টার চরম ঝুঁকির মধ্যে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য প্রাচীন আমলের বিল্ডিং আছে। এসব বিল্ডিংও ঝুঁকিমুক্ত নয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজিব চন্দ্র সরকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে কাজ শুরু হবে। রায়পুরে উপজেলা পরিষদ ভবনের জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে টেন্ডার হবে। সদরসহ পাঁচ উপজেলায়ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে বলে জানান।
