ওয়াশিংটন-বেইজিং মুখোমুখি

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২১:০৬

তৌহিদ আজিজ

 

তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনা বাড়ছে। এ নিয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি আরোপ করে বলেছে, যেভাবে তাইওয়ানকে তারা উস্কে দিচ্ছে তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। এর মাধ্যমে তারা এ অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এ ধরনের মানসিকতার ফল তাদেরকে ভুগতে হবে। কেননা তারা আগুন নিয়ে খেলছে। আর আগুন কোনো শান্তি আনতে পারে না বরং তা সবকিছু পুড়িয়ে শেষ করে দেয়। শুধু তাই নয়, যে যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিত, সেই যুক্তরাষ্ট্রকে উলটো নিষেধাজ্ঞা আরোপের                হুমকি দিয়েছে চীন। তারা বলেছে, যে মার্কিন কোম্পানিগুলো এ চুক্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

সম্প্রতি তাইওয়ানের সঙ্গে ২২০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০৮টি জেনারেল ডায়নামিকস কর্প এম১এ২টি আব্রামস ট্যাংক, রেথিওন সংস্থার তৈরি ২৫০টি স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্রও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চীন বলেছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ঢুকে পড়ছে। সেইসঙ্গে একে তারা তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে আখ্যায়িত করেছে। কেননা তাইওয়ানকে তারা নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। গত শুক্রবার বুদাপেস্টে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই ও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে আগুন নিয়ে খেলছে। এর ফল কখনোই ভালো হতে পারে না। এরপরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং জানান, তাইওয়ানের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি করে আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রাথমিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭২ সালে সাংহাই কমিউনিকে তাইওয়ানকে চীনের অংশ বলে মেনে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেই অবস্থানেরও পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে চীনের এ ধরনের বক্তব্যের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এ চুক্তি ঐ অঞ্চলে নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকির কারণ হবে না। সামরিক ক্ষেত্রে কোনো ভারসাম্যহীনতাও আনবে না; কিন্তু চীন একে অত্যন্ত তীর্যকভাবে দেখে এ ধরনের খোঁড়া যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য নিয়ে যে বিরোধ চলছে তা অন্যভাবে ঘায়েল করতেই তাইওয়ানকে ব্যবহার করছে। বিষয়টি নিয়ে চীনের উত্তেজনার পারদ আরো বাড়ে যখন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। ক্যারিবীয় অঞ্চলে তার সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রাবিরতি না দিতে অনুরোধ জানিয়েছিল চীন; কিন্তু সাই ইং ওয়েন ঠিকই যুক্তরাষ্ট্রে যান। এ নিয়ে তাইওয়ান তখন জানিয়েছিল, কারো ভয়ে ভীত নয় তারা। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তারা তাদের সম্পর্ক বজায় রেখেই চলবে।