চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার থেকে নামতেই যানজট

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ নকশা তৃতীয় দফায় সংশোধন

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৩০

চট্টগ্রাম মহানগরীর ফ্লাইওভারগুলো থেকে নামার পথে দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়। ওপর ও নিচের গাড়ির স্রোত একই জায়গায় মিশে প্রতিটি ফ্লাইওভারের র‍্যাম্পের (ঢালের) নিচে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা প্রণয়নে ভুলের কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লালখান বাজার ফ্লাইওভার থেকে র‍্যাম্প দিয়ে গাড়ি নামছে শুল্কবহরে, আবার একই ফ্লাইওভারের অন্য একটি র‍্যাম্প গিয়ে পড়ছে সিইসি ও ইস্পাহানি মোড়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের গাড়ি নামছে ইস্পাহানি মোড়ে। এতে দেখা যাচ্ছে—ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে নিচের সড়কের একইমুখী গাড়ির স্রোত মিশে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নিচের সড়ক সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচল বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই, বিশেষ করে সন্ধ্যায় ও সকালে যানজটের কারণে মানুষকে প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অপরিকল্পিত নকশা প্রণয়নের কারণে এসব স্থানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নিচে সড়কের প্রশস্ততা কমে গিয়ে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। সিইসি মোড় এলাকার র‍্যাম্পটি আরও ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি করবে। আমরা কোনো জায়গায় র‍্যাম্প করলে যানজট হবে না তার প্রস্তাব করেছি। কিন্তু সিডিএ তাতে কর্ণপাত করছে না।’

এদিকে চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা তৃতীয় দফায় সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। নকশায় প্রথমবার প্রস্তাবিত ১৪টি র‍্যাম্পের মধ্যে পাঁচটি র‍্যাম্প না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সিডিএর সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্পে অপরিকল্পিত র‍্যাম্পের ফলে যানজট সৃষ্টির অভিযোগ ওঠায় এসব র‍্যাম্প নির্মাণ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

যেসব র‍্যাম্প হচ্ছে না :টাইগারপাস অংশে পলোগ্রাউন্ডের দিক থেকে ওঠার র‍্যাম্প, আগ্রাবাদের জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের সামনে নামার র‍্যাম্প, কেইপিজেডে নামার একটি র‍্যাম্প এবং আগ্রাবাদের এক্সেস রোডের ওঠানামার দুটি র‍্যাম্প। এছাড়া চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল সড়কে গাছ কাটা নিয়ে পরিবেশবাদীদের আপত্তির কারণে লালখানবাজার এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার র‍্যাম্পটি নির্মাণ হচ্ছে না।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস বলেন, ভবিষ্যতে নগরবাসী যদি মনে করে ঐ পাঁচটি র‍্যাম্প নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আছে তখন নির্মাণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব র‍্যাম্পের কাছাকাছি অন্য র‍্যাম্প থাকায় যানজট সৃষ্টিতে প্রভাব পড়বে না। পাঁচটি র‍্যাম্প বাদ দিয়ে নকশা সংশোধনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। এতে প্রকল্পের ব্যয় কিছু কমতে পারে।

নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়াল সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।  যানবাহন চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হলেও টোল প্লাজা ও বাকি র‍্যাম্পসহ অবশিষ্ট কাজ এখনো শেষ হয়নি।

ইত্তেফাক/এমএএম