সড়কের ওপর ধানের হাট, পেরিফেরির জায়গা অবৈধ দখলে

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৪:২৩

সিরাজগেঞ্জর তাড়াশের ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোর মধ্যে বিনসাড়া ধানের হাট অন্যতম। কিন্তু হাট বসে তাড়াশ-রানীহাট আঞ্চলিক সড়কের ওপরে। এতে পোহাতে হয় যানজট। এলাকাবাসীর অভিযোগ হাটের পেরিফেরি (সীমানা) ভুক্ত প্রায় সব জায়গা প্রভাবশালীরা অবৈধ দখল নেওয়ায় এমনটি হয়েছে।

বারুহাস ইউনিয়নের পঁওতা গ্রামের কৃষক মোরশেদুল আলম ও বস্তুল গ্রামের কৃষক ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমাদের জমিতে তিনবার ধানচাষ করি। বছরজুড়ে ধান বেচতে হয় বিনসাড়া হাটে। সড়কের ওপর ধানের হাট। দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে, তবুও ধান বেচতে আসি।

বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজম আলী, আব্দুল কুদ্দুস ও তাড়াশ পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা কাওছার হাবিব, শাহালম হোসেন বলেন, বিনসাড়া হাটে পেরিফেরির জায়গা না থাকায় দোকানীরা বসতে পারছেন না। শত বছরের পুরানো এ হাটের ভঙ্গুর অবস্থা।

বিনসাড়া হাটের ধানের ব্যবসায়ী সুজন-সাথী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাদেক হোসেন ও মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সামছুল হক বলেন, তাড়াশ, ভাদাশ, সেরাজপুর, মালশিন, ওয়াশিন, বিনসাড়া, কাজিপুর, আসানবাড়ী, পেঙ্গুয়ারি, বলভা, শিবপুর, বস্তুল, পলাশি, কহিত, কহিত তেতুলিয়া, কুসুম্বী, চৌবাড়িয়াসহ আশপাশের আরও ১০ গ্রামের লোকজন বিনসাড়া হাটে ধান বেচতে আসেন। টনকে টন ধান বেচাকেনা হয় প্রতি হাটে। কিন্তু সড়কের ওপর বিশৃঙ্খলভাবে ধান বেচাকেনার জন্য বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম বিগ্ন ঘটে চলেছে। হাটের সীমানার এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট লেগে যাচ্ছে।

অপরদিকে বিনসাড়া হাটের ইজারাদার শাহালম ও নূর ইসলাম বলেন, হাটের পেরিফেরির জায়গাতে শতাধিক পাকা, আধা পাকা ও টিনের অবৈধ ঘর রয়েছে। অধিকাংশ ঘর পরিত্যক্ত। মূলত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দখলে রেখেছেন। তাছাড়া হাটের মধ্যে ১টা পুকুর রয়েছে। পুকুরটিতে মাটি ভরাট ও হাটের জায়গা দখলমুক্ত করে বেচাকেনার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।  

(১৫ ডিসেম্বর) রবিবার সকালে দেখা গেছে, বিনসাড়া হাটের প্রায় পুরো জায়গার দখল হয়ে গেছে। যাতায়াতের রাস্তাসহ যত্রতত্র ঘর তুলে ফেলে রেখেছেন। অনেকে ব্যবসা করে খাচ্ছেন। 

স্থানীয়রা আরও বলেন, সপ্তাহে ধানের হাটের দুইদিন যানজটে আটকে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। হেঁটে-হেঁটেও এটুকু সড়ক পাড় হওয়া দুষ্কর। মাঝে মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন লোকজন।

বারুহাস উইনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মইনুল হক বলেন, বিনসাড়া হাটের পেরিফেরির জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য আমিই ও বিনসাড়া গ্রামবাসী আলাদা লিখিত আবেদন করেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর। আশ্বাস মিলেছে, বাস্তবায়ন হয়নি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুইচিং মং মারমা দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, তাড়াশ উপজেলার সবগুলো হাটের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক। একটু সময় লাগবে। কিন্তু দখলমুক্ত হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি