নেকাব কাণ্ডে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন সেই অধ্যক্ষ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৯:৪৭

নেকাব না খোলায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব কামাল হোসেন মজুমদার।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) মাটিরাঙায় সেনাবাহিনীর জোন সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি।

এসময় অধ্যক্ষ বলেন, শুক্রবার পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী উম্মে আনজুমান আরার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য যারা রয়েছেন তাদের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কথা দিচ্ছি ভবিষ্যতে আমি ধর্মীয় মূল্যবোধকে বজায় রাখব। সরকার আমাকে যতদিন দায়িত্বে রাখব ততদিন আমার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিবেন এটুকু আমার অনুরোধ।’

ঐদিন পরীক্ষার হলে দায়িত্বে থাকা আরেক শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক আবুল হোসেনও নিজের দোষ স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান এবং দুঃখ প্রকাশ করেন ।

শিক্ষার্থী উম্মে আন্জুমানয়ারা বলেন, যেহেতু উনারা আমার শিক্ষক এবং ক্ষমা চেয়েছেন সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করব বিষয়টি নিয়ে আর কোনো ঝামেলা না হয়। আপনার সবাই আমার পাশে ছিলেন সেজন্য  সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যক্ষ সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তাকে অন্যত্র বদলির জন্য আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি।

সভায় ঘটনার শিকার শিক্ষার্থী উম্মে আনজুমান আরা, মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মনজুর আলম, মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌফিকুল ইসলাম তৌফিকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আলেম সমাজের প্রতিনিধি, পার্বত্য নারী সংহতির আহ্বায়ক শাহেনা আক্তারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে মাটিরাঙা সরকারি ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) এর সমাজতত্ত্ব পরীক্ষার দিন নেকাব না খোলার কারণে কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষক ও কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থী উম্মে আনজুমান আরাকে পরীক্ষা দিতে দেননি। শনিবার ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর এটি ভাইরাল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠে।

ইত্তেফাক/এমএএস