কচুরিপানার কবলে সাচার হাজীগঞ্জ-কচুয়া খাল

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২১:১৬

নৌচলাচল বন্ধ

আবুল হোসেন, কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

কচুয়ার দীর্ঘতম ও প্রশস্ততম সাচার হাজীগঞ্জ ভায়া কচুয়া খাল পানা জটের শিকার হওয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নৌকাযোগে পণ্যসামগ্রী বাজারে আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অবাধে পানির স্রোত প্রবাহিত হতে না পারায় মাঠে মাঠে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উত্পাদন।

অর্ধশতাধিক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ও ৭০/৭৫ ফুট প্রশস্তের এ সাচার হাজীগঞ্জ ভায়া কচুয়া খাল নামে পরিচিত হলেও মতলবের ধনাগোদা ও হাজীগঞ্জের ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে খালটি সংযুক্ত। ধনাগোদা নদী থেকে সৃষ্ট এ খালটি মতলবের নায়ের গাঁ হয়ে কচুয়া উপজেলার উত্তর-পশ্চিম অংশ দিয়ে প্রবেশ করে বড়দৈল, মধুপুর, সাচার, বিতারা, জলাতেতৈয়া, কোমরকাশা হয়ে কচুয়া পৌর বাজারের (কচুয়া সদর) পশ্চিম পাশ ঘেঁষে উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের কড়ইয়া, ডুমুরিয়া ও কালোচোঁ গ্রাম হয়ে হাজীগঞ্জের ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। একসময় ছোট ছোট লঞ্চ এ পথে চলাচল করত। বিশেষ করে বড় বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পণ্যসামগ্রী ব্যবসায়ীরা হাজীগঞ্জ ও কচুয়া বাজারে আনা-নেওয়া করত এ খাল দিয়ে। গভীরতা কমে যাওয়ায় (দীর্ঘ বছর সংস্কার কাজ না করায়) এখন আর লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল না করলেও ব্যবসায়ী ও কৃষকরা নৌকাযোগে মালামাল (ধান, চাউল, পাট, আলু, ভুট্টা, গম, কাঠ, সরিষা ইত্যাদি) আনা-নেওয়ায় এ খাল ব্যবহার করত। কিন্তু দীর্ঘতম খালটির বিভিন্ন স্থান কচুরিপানায় ভরাট হয়ে আছে। বিশেষ করে কোমরকাশা হতে ডুমুরিয়া পর্যন্ত (কচুয়া পৌর বাজারের পুরো অংশসহ) প্রায় চার কিলোমিটার পানায় ভরাট। ফলে নৌকা চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা বিপদে পড়েছেন।

এছাড়া মাঠের পানি এ খাল দিয়েই ডাকাতিয়া ও ধনাগোদা নদীতে চলে যায়। পানায় ভরাট হওয়ার কারণে খালে পানির স্বাভাবিক স্রোত নেই। এর ফলে মাঠে মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল উত্পাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কচুয়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা রুমন দে বলেন, খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য সরকারি কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এ কাজে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। তারপরও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির বলেন, কচুরিপানা পরিষ্কারে সরকারি কোনো অর্থের ব্যবস্থা না থাকলেও এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহযোগিতা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে স্বেচ্ছাশ্রমে পানা পরিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।