মোহাম্মদ ইলিয়াছ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ডলু ও টংকাবতী খালের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে এবং খালপাড়ের সড়কে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বসতবাড়ি। স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থাও হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু সড়ক ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার আধুনগর সরদানী পাড়া এলাকায় ডলু খালের বেড়িবাঁধ ভাঙনের কারণে ঐ এলাকার প্রায় ১৫টি বাড়িঘর খালে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, আমিরাবাদ ও রাজঘাটা এলাকায় টংকাবতী খালের বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। আধুনগর এলাকার ডলু খাল পাড় সংলগ্ন গারাঙ্গিয়া-রশিদিয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। আধুনগর বাজার থেকে মছদিয়া হয়ে গারাঙ্গিয়ার আলুরঘাট পর্যন্ত এই সড়ক বিস্তৃত। সড়কটি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাসহ মছদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী সামশুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আধুনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শত-শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, গত দুই মাস আগে গারাঙ্গিয়া রশিদিয়া সড়ক সংস্কার হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। ডলুর পাড় সংলগ্ন উত্তর হরিণা নজির আহমদ শাহ সড়কেরও বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও বেহাল হয়ে পড়েছে উপজেলার পুটিবিলা মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, লোহাগাড়া উপজেলা সদরের আলুরঘাট সড়কের কিছু অংশ, পূর্ব কলাউজান গাবতলী সড়ক ও আমিরাবাদ রাউজন্যা পাড়া সড়ক।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিভিন্ন স্থানে ডলু ও টংকাবতী খালের বেড়িবাঁধ ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, খালের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে আধুনগর, কলাউজান ও আমিরাবাদ এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও খাল সংলগ্ন রাস্তাঘাট বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদ বন্যা কবলিত এলাকা ও খালের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। অচিরেই খালের বেড়িবাঁধ মেরামতে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
