বাগেরহাটে চাষ হচ্ছে ভিনদেশী ফুল ‘লিলিয়াম’

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৩:৩৯

বাগেরহাটে নেদারল্যান্ডের ফুল লিলিয়াম কন্দ (গাছের মূল) চাষের ৩৪ দিনের মধ্যেই ফুটেছে লাল টকটকে লিলিয়াম। জেলার মোল্লাহাট উপজেলার গারফা গ্রামের প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মদে তার খামারে প্রথমবারের মতো নেদারল্যান্ডের লিলিয়াম ফুল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। এই ফুল দেখতে এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানের দর্শনার্থীরা আসছেন ফয়সালের লিলিয়াম ফুলের খামারে।

এদিকে লিলিয়াম ফুল বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করছেন ফুল চাষি ফয়সাল। বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নেদারল্যান্ডের ফুল লিলিয়াম চাষ ছড়িয়ে দেয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।

লিলিয়াম চাষি প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ জানান, নেদারল্যান্ডের লিলিয়াম ফুল চাষের আগ্রহ নিয়ে ফুলের বীজের জন্য লাল তীর নামের একটি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করি। তাদের মাধ্যমে জানতে পারি এ ফুলের বীজ হয় না। কন্দ (গাছের মূল) থেকেই চারা হয়ে গাছে ফুল ধরে। এরপর লালতীরের সহযোগিতায় নেদারল্যান্ড থেকে লিলিয়ামের ২০০টি কন্দ এনে এক শতাংশ জমিতে ৩০ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে কন্দগুলো রোপণ করি। সাধারণত দুই মাসে লিলিয়াম ফুল ফোটার কথা থাকলেও, নিবিড় পরিচর্যার কারণে আমার জমিতে মাত্র ৩৪ দিনে অনেক গাছে লিলিয়াম ফুল ফুটেছে। আশা করি ইংরেজি নববর্ষ  ও ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভালো দামে এই লিলিয়াম ফুল বিক্রি করতে পারব। 

তিনি আরও বলেন, লিলিয়াম খুব দামি ফুল। বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ইতিমধ্যে আমার লিলিয়াম ফুলের খামার দেখে অনেকেই এই ফুল চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন। প্রতিদিন স্থানীয় থেকে দূর-দূরান্তের আনেকেই আসছেন আমার লিলিয়াম ফুলের ক্ষেত দেখতে। অনেকে লিলিয়াম ফুলের সাথে ছবি তুলছেন। বাগেরহাটে প্রথমবার এই নেদারল্যান্ডের ফুল লিলিয়াম দেখে অনেকে উচ্ছ্বসিত হচ্ছেন। বা

গেরহাটের যাত্রাপুর এলাকার চাষি সাজ্জাত হোসেন জানান, আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে ফয়সাল আহম্মেদের লিলিয়াম ক্ষেত দেখলাম, আগামীকে আমি এক একর জমিতে লিলিয়াম ফুলের চাষ করার আশা রাখছি।

পিরোজপুরের পাড়েরহাট থেকে লিলিয়াম ফুল দেখতে আসা সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক তরুণী জানান, এর আগে ইউটিউবে লিলিয়াম ফুল দেখেছি, আজ নিজের চোখে দেখলাম, ছবি তুললাম। ফুল দেখে অনেক ভালো লাগলো। আমরা চাই এ ফুলের চাষ বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়–ক। 

লালতীর সিড লিমিটেডের পরিচালক তাজওয়ার আউয়াল জানান, আমরা চেষ্টা করছি বিদেশিদের সাথে তালমিলিয়ে কৃষকদের সবজিসহ নানা কৃষি পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে নিতে। লেদারল্যান্ড থেকে লিলিয়াম ফুলের বাল্ব (কন্দ) এনে প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদকে দেয়া হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে ভালো উৎপাদন হওয়ায় বিদেশি জাতের লিলিয়াম ফুল চাষে বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় দেখা গেছে। দেশে লিলিয়াম ফুলের উৎপাদন বাড়লে আগামীতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলোতে লিলিয়াম ফুল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এজন্য আমরা কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করছি। 

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শংকর মজুমদার জানান, নেদারল্যান্ড, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শীত প্রধান দেশগুলোতে লিলিয়াম ফুলের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। সাধারণ সাদা, হলুদ, কমলা, গোলাপি, লাল ও বেগুনি বর্ণের লিলিয়াম ফুল দেখা যায়। এ ফুলের বর্ণচ্ছটা অনেকটা চিত্রের মতো। দেখতে কোনও শিল্পী তার তুলি দিয়ে ফুলের গায়ে গাড়ো রংয়ের প্রলেপ একে দিয়েছে। এ জাতের ফুলে ছয়টি পাপড়ি থাকে যারা বেশ প্রসারিত হয়। বিশ্বব্যাপী অভিজাত পরিবারে এ ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বেশকিছু ওষধিগুণও রয়েছে এ ফুলের। লিলিয়াম ফুল বর্ণ বৈচিত্র্য ও সুন্দর আকারের কারণে বাংলাদেশেও এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমদানি করা প্রতিটি ফুল আমাদের দেশে দুই থেকে তিনশ টাকায় বিক্রি হয়। 

শংকর মজুমদার আরও জানান, জেলার মোল্লাহাট উপজেলার গারফা গ্রামের বাগেরহাটের মাটি ও আবহাওয়া লিলিয়াম ফুল চাষের উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়েছে। আগামীতে বাগেরহাট জেলা-ব্যাপী লিলিয়াম ফুলের চাষের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যাতে কৃষকরা অল্প সময়ের মধ্যে লিলিয়াম ফুল চাষ করে লাভবান হতে পারেন সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি