মিহারী-শিলকুরা কাঁচা রাস্তা
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের মিহারী-শিলকুরা গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার কারণে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। চলাচলের একমাত্র রাস্তা হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। বরুদল নদীর পাশ ঘেঁষা এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাসীর নাভিশ্বাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা দিয়ে বর্নি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিহারী, নয়াগ্রাম, শিলকুরা ও পাশের বিয়ানীবাজার উপজেলার সানেশ্বর, উলুউরি, গাংকুল, দাসউরা, কামারকান্দিসহ প্রায় দশ গ্রামের শিক্ষার্থী ছাড়াও সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন যাওয়া-আসা করেন। বর্ষা মৌসুমে কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে গ্রামে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। জরুরি মুহূর্তে বয়স্ক মানুষ ও রোগীকে কাঁধ করে পারাপারে যেতে হয়। তাদের চলাচলের জন্য আর কোনো রাস্তা নেই। স্থানীয় লোকজন চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষার্থী দেবান্তোষ দাস, ব্যবসায়ী লিটন দাস, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্যামা কান্ত দাসসহ অনেকেই গতকাল রবিবার এই প্রতিবেদককে জানান, ‘আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করি, দীর্ঘ সময় পার হলেও গ্রামীণ এই রাস্তায় এখন পর্যন্ত উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তা কাদায় ভরা, গাড়ি গ্রামে প্রবেশ করে না। জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। ছোটো বাচ্চারাও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি অনেকবার জানানোর পরও রাস্তাটি এখনো বেহাল পড়ে আছে।’
স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুবোধ চন্দ্র দাস বলেন, ‘নদী পাড়ের এই রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ খুব কষ্ট করতেছে। এই রাস্তার জন্য কোনো বরাদ্দ হয়নি। চেয়ারম্যানকে বলে গত বছর কিছু বরাদ্দ নিয়ে মাটির কাজ করিয়েছি। গতবছর ইট সলিং এর জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করেছি। মানুষ কষ্ট করে। কিন্তু কাজ করানোর জন্য কোনো বরাদ্দ পাইলাম না।’
বর্নি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শাহাব উদ্দিন মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘কাদা হয়ে গেছে। মানুষ কষ্ট করে। গত বছর ইট সলিং এর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করা যায়নি। তাত্ক্ষণিক কিছু করতে পারছি না। এখন কোনো বরাদ্দ নেই। উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবগত করব। স্থানীয়দের নিয়ে ইট, বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করব।’ উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুত্ ভূষণ পাল রবিবার দুপুরে বলেন, ‘গ্রামীণ রাস্তা। নদী পাড়ে পড়েছে। এটা আইডিভুক্ত নয়। ডানে একটি রাস্তা আমরা করাচ্ছি। রাস্তাটি দেখেছি। অনেক কর্দমাক্ত। গ্রামীণ অভ্যন্তরীণ সড়ক। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্যোগ নিলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে ইটের সলিং দিয়ে উন্নয়ন করা যেতে পারে।’
