যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
মেহেরপুর প্রতিনিধি
শ্রমিকদের দাবি প্রতিদিন একটি করে ট্রিপ আর মালিকদের দাবি যেভাবে চলছে (প্রতিদিন দুটি করে) ট্রিপ চলবে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে। মালিক-শ্রমিকদের দাবি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মেহেরপুরের সকল রুটে চার দিন ধরে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। গত বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) বাস চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে অবৈধ (শ্যালো ইঞ্জিন চালিত) যান আলগামন, নসিমন এবং ইজিবাইকে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
মেহেরপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক মিহির কান্তি প্রামানিক জানান, পরিবার ঝিনাইদহ থাকার কারণে প্রতিদিন তিনি সেখান থেকে গিয়ে কলেজ করেন। কিন্তু চার দিন বাস বন্ধ থাকার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কলেজে যেতে। একইভাবে কলেজের আরো কয়েকজন শিক্ষক অন্য জেলা থেকে গিয়ে কলেজ করেন। তারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা বাস বন্ধ থাকার কারণে ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। সাধারণ মানুষ শহরে যেতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
মেহেরপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, আন্তঃজেলার সব রুটে ৩৬ দিন বাস চলাচলের পর ৪৬ দিন বাস বন্ধ থাকে। বন্ধের সময় কাজ না থাকায় বাস শ্রমিকদের মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। এজন্য বন্ধের সময়সীমা কমাতে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে প্রতিটি বাস দুবার চলাচলের পরিবর্তে একবার চালানোর দাবি শ্রমিকদের। মালিকপক্ষ যতদিন এ দাবি না মানবে ততদিন বাস চলাচল বন্ধ রাখবে শ্রমিকরা।
জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল জানান, শ্রমিকদের এ দাবি আগেও মানা হয়েছিলো। পরবর্তীতে শ্রমিকরাই তা পরিবর্তন করেছে। মালিকদের সঙ্গে না বসেই শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের এ অন্যায় দাবি আমরা মেনে নেব না। তাদের কারণে আজ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আমারা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে গাড়ি রাস্তায় নামিয়েছি। যখন-তখন তাদের অন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব হবে না।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইবাদত হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুলের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা করে বাস চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। যেহেতু শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন সে কারণে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত এর সমাধান হবে।
