খাদ্যে ভেজাল সৃষ্টি হচ্ছে উত্পাদনের প্রথম থেকেই

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২১:২৪

খাদ্যে দূষণ শুরু হয় একেবারে বীজতলা থেকেই। তারপরও কিছু কিছু খাবার যেমন বয়লার মুরগির মাংস, ডিম এবং পালিত মাছে ভারী ধাতুর বৃদ্ধি আরো বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন খাল, নদী দূষিত। ফসল বপন করার সঙ্গে সঙ্গে ফসলে ঢুকছে ক্ষতিকর সবকিছু এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহ আকারে ঢুকছে অ্যান্টিবায়োটিকও। কারণ খাল ও নদীতে সরাসরি ফেলা হয় হাসপাতলের বর্জ্য ও ওষুধ! সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে খাদ্য দূষণ এখনো সেরকমভাবে আমলে নেওয়া হচ্ছে না। অথচ অপরিকল্পিত ও অনিয়মিত কীটনাশক অধিকাংশ ফসলে ঢুকে তা বিষ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। মাটিও দূষণ করছে এবং তা আবার ফসলে ঢুকছে। এর সঙ্গে তো খাবারে প্রিজারভেটিভ হিসেবে কেমিক্যালের ব্যবহার, খাবারে স্বাদ তৈরির জন্য বিভিন্ন অরগানের ব্যবহার আছেই।

খাদ্যে ভেজাল দূর করার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। পুরো খাদ্যচক্রের লাইফ সাইকেল প্রাসপেকটিভ জেনে তাতে কী কী ধরনের উপাদান যোগ হচ্ছে এবং তাতে খাবারের কী গুণাগুণ পরিবর্তন হচ্ছে এগুলো সব গবেষণার বিষয়বস্তুতে আনতে হবে। নইলে খাদ্যের ভেজাল বা দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে না। মাটি, পানি ও বাতাস দূষণ বন্ধ না করে খাদ্য ভেজালমুক্ত পাওয়া কঠিনই। এর সঙ্গে চালাতে হবে ভেজালবিরোধী অভিযান। উপজেলাভিত্তিক খাবার পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিও করা প্রয়োজন বলে মনে করি। খাদ্য নিয়ে যাঁরা গবেষণা করছেন তাঁদের অর্থ দিয়ে সরকার সহায়তা করবে—এটাও প্রত্যাশা।

সাঈদ চৌধুরী, শ্রীপুর, গাজীপুর