জিব্রাল্টার উপকূলে আটক ইরানের তেল ট্যাংকার ছেড়ে দিতে শর্তারোপ করেছে যুক্তরাজ্য। আর তা হচ্ছে, ট্যাংকারটি সিরিয়ায় তেল নিয়ে যাবে না। ব্রিটেনের দাবি, তেহরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে আঙ্কারায় তেলের চালান পাঠাচ্ছিল। তবে ইরান কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছে। ইরানি সুপার ট্যাংকারটি আটকের পর ব্রিটেনের সঙ্গে দেশটির কুটনৈতিক তিক্ততা শুরু হয়। এর জের ধরে দু’দিন আগে একটি ব্রিটিশ ট্যাংকারকে ধাওয়া করে এক ঝাঁক ইরানি বোট।
এদিকে ব্রিটেন বলেছে, ইরান তার সুপার ট্যাংকারটি ফেরত পাবে। তবে ছাড়া পাওয়ার পর সেটি দেশে ফিরে যাবে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে ইরানকে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট শনিবার এক ফোন আলাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফকে একথা জানান। হান্ট বলেন, ‘আমরা তেল কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে নয়, বরং তেল কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে সবসময় চিন্তিত ছিলাম। এই তেল সিরিয়ায় যাবে না এমন গ্যারান্টি পেয়ে গেলেই যুক্তরাজ্য ট্যাংকার ছেড়ে দেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞায় থাকা সিরিয়ার একটি শোধনাগারের জন্য তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে গত ৪ জুলাই জিব্রাল্টার উপকূল থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিনের সহায়তায় জব্দ হয় ইরানি ট্যাংকার গ্রেস ১ । এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। বিশাল আকারের ওই জাহাজটি ছেড়ে না দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল তারা। জানা গেছে, জিব্রাল্টার পুলিশ তেলবাহী ওই সুপার ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন ও প্রধান কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। ইরান প্রথমে বলেছিল, যে কোনো পরিস্থিতিতেই তারা তেল রপ্তানি চালিয়ে যাবে। হান্ট এর সঙ্গে ফোনালাপের পর এক বিবৃতিতে জারিফ বলেছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি বৈধ গন্তব্যেই যাচ্ছিল তেল ট্যাংকারটি। যুক্তরাজ্যের উচিত দ্রুত সেটি ছেড়ে দেওয়া। যাহোক এর একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। -বিবিসি
