গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় নারী মৈত্রী বাংলাদেশের সিভিল রেজিস্ট্রেশন এবং ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) সিস্টেম সম্পর্কে সাংবাদিকদের জন্য একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) আয়োজিত এই কর্মশালার লক্ষ্য ছিল সিআরভিএস সিস্টেমকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সহজলভ্য করতে মিডিয়ার জ্ঞান বাড়ানো এবং অ্যাডভোকেসি জোরদার করা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানানো হয় এবং কর্মশালার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। তারা মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জোর দেন, যা সিআরভিএস সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সহায়ক।
কর্মশালার বিভিন্ন পর্বে বাংলাদেশের সিআরভিএস সিস্টেমের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। নারী মৈত্রীর প্রকল্প ব্যবস্থাপক সিফাত জাহান বিদ্যমান জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নীতিমালা, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং বাধাগুলোর ওপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। সেশনটি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের বাস্তব গল্প ও সাক্ষ্যের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়— যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনার জন্ম দেয়।
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম এবং মো. মইন উদ্দিন সিআরভিএস নীতিমালা এবং উন্নয়নের কৌশল নিয়ে বিশদ প্রেজেন্টেশন দেন। নজরুল ইসলাম নিবন্ধকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং মিডিয়াকে সিস্টেমের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে তুলে ধরেন। অপরদিকে, মইন উদ্দিন মৃত্যু নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন, যা সিআরভিএস কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
চ্যানেল আই-এর বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামানের নেতৃত্বে একটি প্লেনারি সেশনে সাংবাদিকরা সিআরভিএস সংশ্লিষ্ট মিডিয়া কাভারেজের জন্য একটি আয়ডিয়া প্রণয়নে সহযোগিতা করেন। মাসরুর জামান সাংবাদিকদের উদ্ভাবনী পন্থা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন এবং সমাধানমুখী প্রতিবেদন তৈরির গুরুত্ব সম্পর্কে জোর দেন।
সমাপনী বক্তব্যে মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ এবং সবার জন্য সহজলভ্য করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, সরকার বিদ্যমান জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নীতিমালাগুলো সহজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সবার জন্য সহজলভ্য করে তুলুক। একটি কার্যকর সিআরভিএস সিস্টেম সুশাসন, পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার জন্য অপরিহার্য।’
