সফলতার সোনার হরিণ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৭

 ‘জীবন’ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে অবিরাম ছুটে চলার নাম। যে ছুটে চলার মাঝে প্রতিনিয়তই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় সফলতা ও ব্যর্থতার। যেখানে সফলতার পাশে পুষ্পমাল্য দান করা লোকের কোনো অভাব হয় না। সেখানে ব্যর্থতার পাশে থাকতে সকলের আপত্তি। তাই সফলতার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নিজেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই এবং এর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করি। সদ্য কলেজ শেষ করে ছাত্রজীবনে সফল হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটাই মনে করতাম ছাত্রজীবনের সফলতা। ভর্তি হওয়ার পাঁচটি বছর অতিক্রান্ত হলে চেতন ফিরে, আরে নাহ! সফলতা তো আরো অনেক দূরে- হ্যাঁ এখনো অনেক দূরে। বাস্তবতায় পড়তে হয় তখন। সবাই আশায় বুক বাঁধে, ছেলে আমার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করেছে। সোনার টুকরা ছেলে এবার হাল ধরবে টানাপোড়েনের এই সংসারে। বাবাকে আর অমানুষিক পরিশ্রম করে উপার্জন করতে হবে না। প্রতিনিয়ত সংসারের ভার বহন করতে হবে না। অসুস্থ শরীরটা এখন বেশ বিশ্রাম পাবে। ইবাদতে মগ্ন থাকবে আর সন্তানের কল্যাণ কামনা করবে।

মায়ের পথ্য কেনার জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে না। যেই মা এখন অসুস্থতা নিয়ে অপেক্ষা করে, ছেলে বড় চাকুরে হবে। আমার চিকিত্সা করাবে আর কোনো কষ্ট থাকবে না। কিন্তু ছেলেই জানে চাকরি বাজারের প্রকৃত খবর। সঙ্গে এটাও জানে একটা চাকরি না হলে জীবন সফল না। তাই শিক্ষাজীবনে ছক এঁকেছিল এভাবে শিক্ষা+ পরিশ্রম+ অর্থ+ সময়ানুযায়ী সিদ্ধান্ত মিলিয়ে সফলতা। কিন্তু এসবের মাঝে ভুলেই বসেছিল সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাটাই হবে সফলতার মূল উপাদান। কোনো একটা সময় গিয়ে তার অর্থ উপার্জনের একটা ব্যবস্থা হয়ে যায় এবং অনেক কিছু করার আশায় সে অর্থমুখী হয়ে পড়ে। এটাকেই জীবনের সফলতা মনে করে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক চাহিদা পূরণ করতে যেয়ে সে হিমশিম খায়। ভেঙে যায় মনোবল। খুঁজতে থাকে নিজেকে, হারিয়ে যাওয়া সেই সময়গুলোকে, ফিরে তাকায় বারবার শুরু থেকে শেষ অবধি। যত দিন যায় ততই সে বাস্তবতার মাঝে আসে, আর উপলব্ধি করে টাকার মাঝেই জীবনের সাফল্য নিহিত নয়। হিসাব মিলাতে বসে সফলতার। সে কথিত সফলতার দিকে অবিরাম ছুটে চলা, তা কী বাস্তবেই সফল করে তুলেছে। অর্জিত হয়েছে কী কিছু নাকি সবই শূন্যতা। এই শূন্যতা নিয়েই কী ফিরতে হবে যে জগত্ থেকে এসেছি তাতে?

ভাবনার মাঝেই ‘জীবন’ তার অবশ্যম্ভাবী যাত্রাপথে চলে যাওয়া। কিন্তু সাফল্যের যাত্রা, আলোচনার সমাপ্তি আসে না। আর এই অবিরাম ছুটে চলা, অনবরত আলোচনার মাঝে হন্যে হয়েও খুঁজে ফিরি কোথায় আমি আর আমার সফলতা। এই জীবনের প্রতিটি ধাপে নাকি অন্য জগত অথবা কোথাও নয়। এভাবেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় জীবনের সফলতা।

n লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়