মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সকল আন্দোলন সংগ্রামের সাক্ষী ইত্তেফাক

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪১

১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর প্রত্যেকটি সংবাদপত্র নিজেদের মতাদর্শ লালন করত। বাঙালি মুসলমানদের মতাদর্শ লালন করার মতো কোন পত্রিকা স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ছিল না। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় বাঙালি মতাদর্শ প্রচার করার মতোও পত্রিকা তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছিল না। সে সময় এই মতাদর্শ প্রচারের জন্য একটি পত্রিকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। সেই লক্ষ্যেই ১৯৫৩ সালে পথ চলা শুরু হয় দৈনিক ইত্তেফাকের। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের জন্য মানিক মিয়ার ইতিহাস জানা জরুরি। ইত্তেফাকের ইতিহাস বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সকল আন্দোলন সংগ্রামের সাক্ষী দৈনিক ইত্তেফাক। সকল আন্দোলনে বাঙালির প্রতিনিধিত্ব করেছে এই পত্রিকা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাংবাদিকতার উত্কর্ষে শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। গতকাল সোমবার জাবির জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

তাসমিমা হোসেন শিক্ষার্থীদের বাঙালি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, যারা সাংবাদিকতা করতে চায় তাদেরকে অনেক জানতে হবে। ইতিহাস জানার কোন বিকল্প নেই। আর একজন বাঙালি হিসেবে আমাদেরকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকতা একটি প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ পেশা। যেখানে অনেক বাধা অতিক্রম করে টিকে থাকতে হয়। বাংলাদেশে বেশিরভাগ সাংবাদিক হত্যারই বিচার হয়নি। তারপরেও সাংবাদিকরা তাদের কাজ ঝুঁঁকি নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন। তার উপর দিন দিন নতুন নতুন আইন পাস হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকরা তদের স্বাধীন সাংবাদিকতা  করতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন—এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ.ই মামুন, কথা সাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী, সাংবাদিক পারভীন সুলতানা ঝুমা প্রমুখ। এর আগে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার রুমে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। কর্মশালায় প্রায় বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষ হয় অতিথিদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদানের মধ্য দিয়ে।

কর্মশালায় পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সামিট গ্রুপ, অ্যাকশন এইড, গ্রিন ডেলটা লাইফ ইন্সুরেন্স লি., ই-সিকিউরিটিজ লি., বিকাশ, ইস্পাহানি ও অরেঞ্জি।

আগামীকাল বুধবার সাংবাদিকতার উত্কর্ষে শীর্ষক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ধানমন্ডিস্থ ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে।