শৈত্যপ্রবাহের আভাস

বছরের শেষ দিনে শীতে কাহিল উত্তরের জনজীবন

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৩:২৪

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বছরের শেষ দিনে এসে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিন বিকেল থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে গোটা জনপদ। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত সূর্যের আলোর দেখা মেলেনি এ জনপদে।

বিশেষ করে জেলার ১৬টি ছোটবড় নদী বিধৌত জেলার চর ও দ্বীপ চরের বাসিন্দারা নদনদীর হিমেল হাওয়ায় কাহিল হয়ে পড়েছেন। চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষজন। অনেকেই পরিবারের আয় রোজগারের কথা ভেবে শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন সকালে দেরিতে হলেও কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সূর্যের আলোর উত্তাপ না থাকায় হিমেল বাতাসে নিম্নগামী হতে থাকে তাপমাত্রা । এতে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। অন্যদিকে জেলার জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কাশি ও জ্বরসহ শীতজনিত রোগ বাড়ছে। 

ফুলবাড়ী উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকায় কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই শীতে বাড়ী থেকে বাহির হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। তার পরেও এসে মাঠে কাজ করছি।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় জেলা জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও জানান গত ১৫ দিন ধরে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ১১-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠা-নামা করছে। তবে গত এক সপ্তাহ আগে তাপমাত্রা কমে এখন ১০ ডিগ্রির ঘরে চলে এসেছে। আরও তাপমাত্রা কমে মৃদু কিংবা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষদের উপজেলা পর্যায়ে নগদ ৪৯ লাখ টাকা এবং ২০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চাহিদা দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ এলে সেগুলোও দ্রুত বিতরণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি