বাংলাদেশে এত মানুষের জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি কেন?

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ২১:০৭

বাংলাদেশে ১ জানুয়ারিতে জন্মতারিখ নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা বছরের অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় অনেক বেশি। জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করলে এই প্রবণতাটি স্পষ্ট হয়। যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই, তবে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনটি জন্মতারিখ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

শিশু বিশেষজ্ঞ ড. ইশতিয়াক মান্নানের মতে, ১ জানুয়ারিতে বেশি শিশুর জন্ম হওয়া নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রবণতা। বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে এখনো বেশিরভাগ শিশুর জন্ম বাড়িতে হয়, যেখানে শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অভিভাবকরাও জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন।

ড. মান্নান আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জন্ম নিবন্ধন সময়মতো হয় না। শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় পরবর্তীতে, যেমন স্কুলে ভর্তি বা পরীক্ষার সময়। সেই সময় অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা সহজেই মনে রাখার জন্য একটি সাধারণ তারিখ বসিয়ে দেন। এই তারিখটি বেশিরভাগ সময় ১ জানুয়ারি হয়ে থাকে।’

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান শফিক রহমান (ছদ্মনাম), যার নিজের ও দুই চাচাতো ভাইয়ের জন্মতারিখও ১ জানুয়ারি। তিনি জানান, ‘আমাদের পরিবারের কেউ জন্মতারিখ লিখে রাখেনি। তাই মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় স্কুলের শিক্ষকরা ১ জানুয়ারি তারিখটি দিয়ে দেন।’

এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভিয়েতনাম, ও আফগানিস্তানেও দেখা যায় বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

তবে প্রকৃত অর্থেও ১ জানুয়ারিতে বাংলাদেশে অনেক শিশুর জন্ম হয়। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার ৪২৮টি শিশুর জন্ম হয়। বিশ্বজুড়ে এদিন জন্ম নেওয়া মোট শিশুদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার।

ইউনিসেফের হিসাব অনুসারে, জানুয়ারির প্রথম দিনে জন্ম নেওয়া শিশুদের এক চতুর্থাংশের জন্ম হয় দক্ষিণ এশিয়ায়। এদিন সবচেয়ে বেশি শিশু জন্ম নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ভারত: ৬৯,৯৪৪

চীন: ৪৪,৯৪০

নাইজেরিয়া: ২৫,৬৮৫

পাকিস্তান: ১৫,১১২

ইন্দোনেশিয়া: ১৩,২৫৬

যুক্তরাষ্ট্র: ১১,০৮৬

কঙ্গো: ১০,০৫৩

বাংলাদেশ: ৮,৪২৮

এই শিশুদের অনেকেই বিভিন্ন নামে পরিচিতি পাবে, তবে অনেকে জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ইত্তেফাক/আরআর